logo

ক্লোরোফর্মে অজ্ঞান ফিজিও, প্রথম বিশ্বকাপের অদ্ভুত এক ঘটনা

ক্লোরোফর্মে অজ্ঞান ফিজিও, প্রথম বিশ্বকাপের অদ্ভুত এক ঘটনা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বড় গোল, বড় ফাইনাল, বড় তারকার গল্প অনেক আছে। কিন্তু ফুটবলের মহাযজ্ঞের প্রথম আসরেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল, যা আজকের ফুটবল বাস্তবতায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।

১৯৩০ বিশ্বকাপ। জায়গা উরুগুয়ের মন্টেভিডিও। প্রথম বিশ্বকাপ বলেই সবকিছু ছিল নতুন, অনেক কিছুই ছিল অগোছালো। আধুনিক ফুটবলের মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, সম্প্রচার, প্রযুক্তি, কিছুই তখন আজকের পর্যায়ে ছিল না।

সেই আসরের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচটি ছিল উত্তপ্ত। আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলে জিতলেও স্কোরলাইন পুরো গল্প বলে না। মাঠে ছিল আঘাত, উত্তেজনা, ক্ষোভ আর অদ্ভুত সব দৃশ্য।

এই ম্যাচেই ঘটে ক্লোরোফর্ম ঘটনা।

বেলজিয়ান রেফারি জন ল্যাঙ্গেনাস যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে ফাউল দেন। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র দলের মেডিক্যাল অ্যাটেনডেন্ট মাঠে ঢুকে পড়েন। উদ্দেশ্য ছিল রেফারির সঙ্গে কথা বলা, হয়তো প্রতিবাদও করা।

কিন্তু এরপর যা ঘটে, সেটাই ঘটনাটিকে বিশ্বকাপের অদ্ভুত ইতিহাসে জায়গা দিয়েছে।

রাগের মাথায় তিনি নিজের ওষুধের বাক্স মাটিতে ছুড়ে ফেলেন। বাক্স খুলে যায়, কয়েকটি বোতল ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে একটি বোতলে ছিল ক্লোরোফর্ম। বোতল ভাঙতেই তার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, আর সেই গন্ধেই তিনি নিজেই অজ্ঞান হয়ে যান।

যিনি মাঠে এসেছিলেন প্রতিবাদ করতে, তাকেই শেষ পর্যন্ত মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে হয়।

আজকের ফুটবলে এমন দৃশ্য কল্পনা করাও কঠিন। এখন প্রতিটি ম্যাচে থাকে মেডিক্যাল প্রোটোকল, স্টাফদের নির্দিষ্ট সীমা, নিরাপত্তা এবং ভিডিওতে ধরা পড়া প্রতিটি মুহূর্ত। কিন্তু ১৯৩০ বিশ্বকাপ ছিল অন্য এক সময়ের ফুটবল। সেখানে খেলা যেমন ছিল কাঁচা, তেমনি ঘটনাগুলোও ছিল অপ্রস্তুত ও অদ্ভুত।

এই ঘটনা শুধু হাস্যকর নয়, এটি প্রথম বিশ্বকাপের চরিত্রও দেখায়। তখন বিশ্বকাপ এখনও আজকের মতো নিখুঁত যন্ত্রে পরিণত হয়নি। টুর্নামেন্টটি ছিল সাহসী এক পরীক্ষা, যেখানে ফুটবলের বড় স্বপ্নের সঙ্গে ছিল বিশৃঙ্খলা, আবেগ এবং মানবিক ভুল।

আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় সেমিফাইনালে। কিন্তু ম্যাচের স্মৃতিতে শুধু গোল বা ফলই থাকে না, থেকে যায় সেই অদ্ভুত ক্লোরোফর্ম ঘটনার গল্পও।