নেটওয়ার্ক ছাড়াই ফোনে যোগাযোগ: আল্ট্রালিংক যেভাবে কাজ করে

স্মার্টফোনে কাউকে কল করা বা মেসেজ পাঠানোর সময় আমরা সাধারণত মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করি। ফোন থেকে পাঠানো তথ্য প্রথমে মোবাইল নেটওয়ার্কে যায়, এরপর বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর মাধ্যমে তা অন্য প্রান্তের ফোনে পৌঁছায়। ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একইভাবে ডেটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছায়।
কিন্তু মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল না থাকলে? এখানেই ভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে ইনফিনিক্সের ‘আল্ট্রালিংক’। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর না করে কাছাকাছি থাকা সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ তৈরি করা।
টাওয়ারের বদলে ফোনই হয়ে ওঠে যোগাযোগের মাধ্যম
আল্ট্রালিংকের ধারণাটি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটি সাধারণ উদাহরণ। ধরুন, পাহাড়ে হাইকিংয়ের সময় একটি দলের দুই সদস্য একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলেন। ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। প্রচলিত ব্যবস্থায় একজন আরেকজনকে কল বা মেসেজ করতে পারবেন না।
আল্ট্রালিংক সমর্থিত দুটি ফোন থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এখানে ফোনটি কোনো মোবাইল টাওয়ারে সংযোগ করার চেষ্টা না করে কাছাকাছি থাকা অন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোনের সঙ্গে সরাসরি একটি ডিভাইস-টু-ডিভাইস যোগাযোগ লিংক তৈরি করে।
অর্থাৎ যোগাযোগের পথটি দাঁড়ায়—ফোন → সরাসরি অন্য ফোন। মাঝখানে মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রয়োজন হয় না।
সংযোগ তৈরি হয় কীভাবে?
প্রযুক্তিগতভাবে একটি ফোন যখন আল্ট্রালিংক ব্যবহার করে, তখন সেটি কাছাকাছি থাকা সমর্থিত ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি সরাসরি ওয়্যারলেস লিংক ব্যবহার করে। দুই ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ তৈরি হওয়ার পর সেই লিংকের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
এটি প্রচলিত মোবাইল কলের মতো নয়, যেখানে ফোনের সিগন্যাল প্রথমে অপারেটরের বেস স্টেশনে পৌঁছায়। আবার এটি সাধারণ Wi-Fi ব্যবহারের মতোও নয়, যেখানে সাধারণত একটি রাউটার বা অ্যাক্সেস পয়েন্টের প্রয়োজন হয়।
এখানে মূল বিষয় হলো দুই ডিভাইসের সরাসরি যোগাযোগ।
তাই ব্যবহারকারীর ফোনে সিম থাকলেও ওই মুহূর্তে মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক না থাকলে আল্ট্রালিংক-সমর্থিত অন্য ফোনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকতে পারে।
দূরত্ব কতটা?
ইনফিনিক্সের ইন-হাউস ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী, খোলা পরিবেশে এবং দুটি ডিভাইসের মধ্যে কোনো বাধা না থাকলে হট ৭০ প্রো ৫জি সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত আল্ট্রালিংক সংযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এই দূরত্বকে সব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত পরিসর হিসেবে দেখা যাবে না। ওয়্যারলেস যোগাযোগে দূরত্বের ওপর পরিবেশের বড় প্রভাব থাকে। ভবন, দেয়াল, পাহাড়, গাছপালা কিংবা অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে কার্যকর দূরত্ব কমে যেতে পারে। একইভাবে আশপাশের রেডিও পরিবেশও সংযোগের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু কথা নয়, আদান-প্রদান করা যাবে তথ্যও
আল্ট্রালিংকের ব্যবহার শুধু ভয়েস যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়। সমর্থিত ডিভাইসগুলোর মধ্যে টেক্সট মেসেজ ও ছবি আদান-প্রদানের সুবিধাও রয়েছে।
অর্থাৎ নেটওয়ার্ক কাভারেজের বাইরে থাকলেও কাছাকাছি থাকা ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট তথ্য সরাসরি বিনিময় করতে পারেন। পাহাড়ে ট্রেকিং, ক্যাম্পিং, ভ্রমণ কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন এলাকায় এটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
ধরা যাক, একটি দল পাহাড়ে হাঁটছে। দলের কয়েকজন সামনে চলে গেছেন এবং বাকিরা কিছুটা পেছনে। হঠাৎ পুরো দল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেল। আল্ট্রালিংক সমর্থিত ফোনগুলো যদি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন।
নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আল্ট্রালিংক মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়। মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো এর মাধ্যমে যে কোনো দূরত্বে বা যে কোনো ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়।
প্রযুক্তিটি মূলত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায় কাছাকাছি সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের একটি অতিরিক্ত পথ তৈরি করে।
অর্থাৎ প্রচলিত নেটওয়ার্ক যেখানে একটি টাওয়ারের মাধ্যমে ফোনকে অন্য ফোন বা সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে, আল্ট্রালিংক সেই অবকাঠামোর প্রয়োজন ছাড়াই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা ডিভাইসকে সরাসরি যুক্ত করার ধারণায় কাজ করে।
কোন ফোনে পাওয়া যাবে?
ইনফিনিক্সের হট ৭০ সিরিজ, নোট ৬০ সিরিজ এবং স্মার্ট ২০ সিরিজের নির্দিষ্ট ডিভাইসে আল্ট্রালিংক সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে একই ফিচার সমর্থন করে এমন ফোন ব্যবহারকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের একটি বাড়তি সুযোগ পান।
