মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে হুয়াওয়ে স্মার্টফোনে প্রশ্নবিদ্ধ ‘জি-বক্স’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্মার্টফোনের বাজার থেকে স্রেফ ‘নাই’ হয়ে গিয়েছিল চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘হুয়াওয়ে’। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও বাজারে প্রবেশ করেছে ব্র্যান্ডটি। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল, ইউটিউব, এক্স, উবারের মতো মার্কিন টেক জায়ান্টদের কোনো অফিসিয়াল অ্যাপ নেই হুয়াওয়ে ডিভাইসে। কিন্তু ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটাতে ‘জি-বক্স’ নামক থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশ্চিমা অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ রেখেছে হুয়াওয়ে। যদিও অ্যাপ ব্যবহারে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই জি-বক্সের।
এমন প্রেক্ষাপটে জি-বক্সের আস্থা, নিরাপত্তা এবং উপাত্ত সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তিগত সমাধান এবং ডিভাইসের মাধ্যমে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে উপাত্ত চুরির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। হুয়াওয়ে ‘ম্যাট ৩০’ এবং ‘ম্যাট ৩০ প্রো’ মডেলের স্মার্টফোনে গুগলের অ্যাপ সার্ভিস থেকে অননুমোদিত উপায়ে ব্যবহারকারীর উপাত্তের প্রবেশাধিকার নেওয়া এবং চীনে পাঠানোর প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালের মেতে হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আলোকে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হুয়াওয়ের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যক সম্পর্ক বা বিনিময়ের পথ আটকে যায়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বাজার হারানো
এমন পরিস্থিতিতে গুগল প্লে সার্ভিসের সেবা বন্ধ হয়ে যায় হুয়াওয়ের জন্য। ফলে শত শত কোটি ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় গুগল, ফেসবুক, এক্স মুহূর্তেই ‘অকার্যকর’ হয়ে যায় হুয়াওয়ে ডিভাইসে। বন্ধ হয়ে যায় অপারেটিং সিস্টেমও। ফলে অল্প সময়েই স্মার্টফোনের বাজার থেকে স্রেফ ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যায় হুয়াওয়ে।
পরবর্তী সময়ে ‘হারমনি ওএস’ নামক নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম চালু করে হুয়াওয়ে। তবে এই অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যাপ তৈরি বা ডেভেলপ করতেও রাজি হয়নি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বিকল্প সমাধান নিয়ে ভাবতে হয় হুয়াওয়েকে।
জি-বক্সের আগমন
‘অ্যাপ ক্লোনিং’-এর ফিচার নিয়ে ২০১৮ সালে চালু হয় ‘জি-বক্স’। কোনো ব্যবহারকারী একই ডিভাইসে একই অ্যাপে দুটি আইডি একই সঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে, অ্যাপটি দুবার ইনস্টলের সুযোগ করে জি-বক্স। আর এখানেই সমাধান খুঁজে পায় হুয়াওয়ে। বলা হয়ে থাকে, ২০২২ সালে জি-বক্সকে কিনে নেয় হুয়াওয়ে। তখন এটিকে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত করা হয়। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। কিন্তু এই জি-বক্স দিয়েই স্মার্টফোনের বাজারে আবারও ফিরেছে হুয়াওয়ে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল, জিমেইল, ইউটিউব, মাইক্রোসফট, এক্স—এমন অসংখ্য অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে জি-বক্স।
যদিও এগুলোর কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ‘ভেরিফায়েড’, ‘ডেভেলপড’ ও ‘মেইনটেইন্ড’ না। অর্থাৎ জি-বক্সে থাকা ফেসবুকের অ্যাপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা দ্বারা স্বীকৃত, উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণকৃত নয়। বাংলাদেশের একাধিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমনকি মেটা ও গুগলের মতো টেক জায়ান্টদেরও জি-বক্স বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা ঘোষণা নেই। জি-বক্স প্ল্যাটফর্মে অ্যাপগুলো তার মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা ভেরিফায়েড বা যাচাই করা কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। এমনকি জি-বক্সের নিজস্ব ‘প্রাইভেসি পলিসি’তে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয়েও আছে বিতর্ক।
জি-বক্সের প্রাইভেসি পলিসি
পলিসির প্রাথমিক ধারাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের ভেতরে ব্যবহারকারী যখন কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ (যেমন: হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক) ব্যবহার করেন, তখন জি-বক্স পরোক্ষভাবে ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্ট বা বন্ধুতালিকা, ব্যক্তিগত নোটস এবং গ্যালারির ছবির অ্যাক্সেস নেয়। আইনি শর্তের বেড়াজালে এই ডেটাগুলো তাদের সিস্টেমে ব্যবহারের অনুমতি গ্রাহকের অজান্তেই কার্যকর হয়ে যায়। জি-বক্স ব্যবহার করতে হলে এসব অ্যাকসেস দিতেই হবে ব্যবহারকারীকে। অ্যাপ ক্লোনের অংশ হিসেবে জি-বক্স ডিভাইসের মূল মেমোরি এবং এক্সটার্নাল এসডি কার্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায়। ফোনে ঠিক কী কী অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা আছে, তার সম্পূর্ণ তালিকা বা ইনভেন্টরি নিয়মিত স্ক্যান করে নিজস্ব সার্ভারে পাঠায়। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল অ্যাপের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ব্যবহারকারীর অবস্থান এবং অনলাইন কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে ট্র্যাকের জন্য অ্যাপটি ডিভাইসের স্থায়ী আইডেন্টিফায়ারগুলো সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ফোনের আইএমইআই নম্বর, ম্যাক অ্যাড্রেস, আইপি অ্যাড্রেস এবং কান্ট্রি কোডের মতো অতি সংবেদনশীল আইডেন্টিটি কোড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পরিবর্তন করা অসম্ভব। সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ ‘ইউজার ডেটা’ কেবল নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
জি-বক্সের পলিসি অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাস এবং পছন্দ ট্র্যাক করে তা তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার, অ্যাফিলিয়েট ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়, যাতে ব্যবহারকারীকে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া যায়।
পলিসির চতুর্থ সেকশনে কোম্পানিটি একটি 'দায়মুক্তি' বা ডিসক্লেইমার যুক্ত করেছে। সেখানে উল্লেখ আছে, তারা ডেটা সুরক্ষার চেষ্টা করলেও কোনো কারণে যদি ডেটা হ্যাক বা লিক হয়ে যায়, তবে তার কোনো নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি তারা দেবে না। অর্থাৎ জি-বক্স ব্যবহারের ফলে জিমেইল, গুগল ড্রাইভ বা পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষতি হলে কোম্পানি কোনো আইনি দায় নেবে না এবং গ্রাহক কোনো আইনি প্রতিকার পাবেন না।
যা বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা
দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিলিয়ান টেকনোলজিসের চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) রাশেদুল হক রুমি এশিয়া পোস্টকে বলেন, “জি-বক্স থেকে ইনস্টল করে কোনো প্ল্যাটফর্মের একাউন্টে লগইন করা হয়, তখন ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, সেশন টোকেন ইত্যাদি ডেটা একটি থার্ড পার্টির মধ্য দিয়ে যায়। জি-বক্স দাবি করতে পারে যে তারা কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না, কিন্তু এটি ‘ক্লোজড সোর্স’ হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে সেটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় অ্যাপগুলো সরাসরি গুগল প্লে স্টোর থেকে না এসে অন্য ‘সোর্স’ বা ‘রিপোসিটরি’ থেকে আসে। ফলে ‘মডিফাইড’ বা ‘টেমপারড এপিকে’ ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ আপনি যে অ্যাপটি ইনস্টল করছেন, সেটি ডেভেলপারের প্রকাশিত আসল ও অপরিবর্তিত সংস্করণ কি না, তা সব সময় নিশ্চিত হওয়া কঠিন হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘গুগল প্লে প্রোটেক্ট’-এর ‘বিল্ট ইন সিকিউরিটি সিস্টেম’, যা নিয়মিতভাবে অ্যাপ স্ক্যান করে এবং ক্ষতিকর বা সন্দেহজনক অ্যাপ শনাক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু জি-বক্সে গুগলের প্লে প্রোটেক্ট সম্পূর্ণরূপে এখানে নাও পাওয়া যেতে পারে। ব্যাংকিং বা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাপের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশ, নগদ বা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ‘গুগল প্লে ইন্টেগ্রিটি এপিআই’ ব্যবহার করে ডিভাইস এবং অ্যাপের সত্যতা যাচাই করে। এই জি-বক্সের মতো ‘ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট’ অনেক সময় সেই যাচাইপ্রক্রিয়া পুরোপুরি পাস করতে পারে না। ফলে কোনো কোনো অ্যাপ কাজ নাও করতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ‘ফ্রড ডিটেকশন’-এর কিছু সুবিধাও সীমিত হয়ে যেতে পারে।”
এই টেকনোলজিস্ট বলেন, ‘সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টিতে জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার হবে, সেটা স্পষ্ট নয়। গুগল বলবে এটি তাদের সমর্থিত প্ল্যাটফর্ম নয়, হুয়াওয়ে বলবে এটি তাদের সেবা নয়, আর জি-বক্স একটি স্বাধীন ও থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম।’
তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষক সাবিলা ইনুন বলেন, ‘জি-বক্সের মতো থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে হুয়াওয়ে ডিভাইসে গুগল বা ফেসবুকের মতো অ্যাপ চালানোর ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো আস্থা, নিরাপত্তা ও ডাটার গতিপথ। প্রযুক্তিগতভাবে এমন সমাধানগুলো সাধারণত অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর বা ভেন্ডর ইকোসিস্টেমের বাইরে কাজ করে, যেখানে অ্যাপগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি (গুগল/মেটা/হুয়াওয়ে) দ্বারা সার্টিফাইড বা ম্যানেজড থাকে না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকে ডেটা প্রাইভেসি, পারমিশন মিসইউজ, ম্যালওয়্যার ইনজেকশন বা ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ট্র্যাকিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে ইউজারের নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা কমে যেতে পারে। তাই এগুলোর নিয়ন্ত্রণে কে থাকছে, সেটাই মূল উদ্বেগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে জি-বক্সের ভেতরে অ্যাপগুলো কীভাবে কাজ করছে, তার ধরন। এখানে ব্যবহৃত অ্যাপগুলো সাধারণত দুভাবে কাজ করছে, একটি হলো ওয়েব বেজড র্যাপার বা কম্প্যাটিবিলিটি লেয়ার, যেখানে অফিসিয়াল অ্যাপের বদলে ওয়েব ভার্সন বা ইন্টারফেস শেয়ার করা হয়। আরেকটি হলো থার্ড পার্টি ডিস্ট্রিবিউশন লেয়ার, যা অ্যাপকে সরাসরি ভিন্ন পরিবেশে রান করায়। এই পুরো প্রক্রিয়াতেই প্রশ্ন থাকে যে এটা কি অফিসিয়াল, সার্টিফায়েড ইউজ নাকি কাজ চালানোর মতো সাময়িক সমাধান?’
অন্ধকারেই থাকছেন গ্রাহকরা
এত সব কারিগরি দিক না বুঝেই হুয়াওয়ে স্মার্টফোন কিনছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। গত সপ্তাহে তিনটি মডেল ‘ম্যাট ৮০ প্রো’, ‘ম্যাট এক্স৭’ এবং ম্যাটপ্যাড ১১.৫’ বাংলাদেশে বাজারজাত শুরু করে হুয়াওয়ে। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থিত হুয়াওয়ে দোকানে গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, জি-বক্সের মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতন করছে না হুয়াওয়ে। অ্যাপগুলো যে থার্ড পার্টির মাধ্যমে চলছে, সে বিষয়েও কোনো বার্তা দিচ্ছেন না বিক্রয় প্রতিনিধিরা। কোনো কোনো গ্রাহক ফেসবুক, গুগল অ্যাপ নিয়ে প্রশ্ন করলে শুধু এটুকুই জানানো হচ্ছে যে ‘সব অ্যাপ চলবে’। যদিও জি-বক্স ছাড়া এসব অ্যাপ হুয়াওয়ে স্মার্টফোনে সক্রিয় না থাকার বাস্তবতা জানানো হচ্ছে না গ্রাহকদের। বরং ডিভাইসে আগে থেকেই জি-বক্স ইনস্টল করে তার মাধ্যমে অ্যাপ চালিয়ে দেখানো হচ্ছে আগ্রহী ক্রেতাদের।
বিষয়টির কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গ্রাহকদের এভাবে অন্ধকারে রেখে স্মার্টফোন বিক্রি করার জন্য হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকদের সচেতন করাও ব্র্যান্ডেরই দায়িত্ব। সেখানে তারা কীভাবে থার্ড পার্টির মাধ্যমে এসব অ্যাপ চালাচ্ছে, গ্রাহকদের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত, জননিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে কি না—এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার।’
যা বলছে হুয়াওয়ে
হুয়াওয়ে’র নিজস্ব অ্যাপ স্টোরে প্রয়োজনীয় সব অ্যাপ নিয়ে গ্রাহকদের জন্য নিজস্ব ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে। যদিও হুয়াওয়ে অ্যাপ স্টোরের জন্য কারা অ্যাপ ডেভেলপ করছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
হুয়াওয়ে বাংলাদেশের মার্কেটিং ম্যানেজার (ডিভাইস) ফারুক রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যারা অ্যাপ ডেভেলপার, তারা হুয়াওয়ের জন্য অ্যাপগুলোর একটি সংস্করণ তৈরি করছে। এই ডেভেলপার মূলত থার্ড পার্টি।’
হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় সব অ্যাপ পাবেন কি না এবং সেগুলো কার্যকরভাবে সক্রিয় থাকবে কি না; বিশেষ করে কোনো ব্যবহারকারী হুয়াওয়ে ডিভাইস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সেটি কার্যকর থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক রহমান বলেন, ‘আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। টেক রিভিয়াররা আমাদের ফোনের অভিজ্ঞতায় কোনো সমস্যা পায়নি।’




