logo

রাজধানীতে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপিত

রাজধানীতে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপিত
ছবি: সংগৃহীত

‘ডিজিটাল লাইফলাইন: সংযুক্ত বিশ্বে সহনশীলতা শক্তিশালীকরণ’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক সাবমেরিন ক্যাবল বিস্তৃত রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ডাটা ট্রাফিক সম্পন্ন হয়। ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী সমাধান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমান সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এআই, হার্ডওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সেন্টার, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন সংযোগ ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। ফোরজি নেটওয়ার্ক দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর আওতায় এসেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশ মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে।

তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ফাইভজি এবং দেশব্যাপী ফাইবার অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এক নাগরিক, এক ওয়ালেট, এক আইডি এবং জাতীয় ডেটা ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপরও তিনি জোর দেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন খুব অল্প সময়েই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল সেবা ও ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল খাতের বিকাশে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সেবার মান ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ ডিজিটাল সেবাদানকারী দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার অন্যতম ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, ফাইভজি, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা প্রযুক্তি আগামী দিনের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন বলেন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এখন মানুষের জন্য জীবনরেখায় পরিণত হয়েছে। তিনি শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনটি বিভাগে দিবসটি উপলক্ষে অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিবসটি উপলক্ষে ছিল বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন, প্রযুক্তিভিত্তিক স্মরণিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিষয়ভিত্তিক টকশো। এছাড়া ১৭ ও ১৮ মে দুইদিনব্যাপী বিটিআরসি প্রাঙ্গণে টেলিকম ও প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোবাইল অপারেটর, মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, টাওয়ার কোম্পানি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, আইসিএক্স, আইআইজি, বিটিসিএলসহ টেলিকম ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ১৭ মে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৯৪টি সদস্য দেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে দেশের তথ্য প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরাও অংশ নেন।