logo
Advertisement

ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখতে ফোন কত শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখতে ফোন কত শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করবেন
ছবি: রিডার্স ডাইজেস্ট

স্মার্টফোনের চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামলেই অনেকে চার্জারে লাগিয়ে দেন। আবার কেউ কেউ ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ রাতভর ফোন চার্জে রেখে দেন। এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, ফোনের ব্যাটারি কি সব সময় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা উচিত?

Advertisement

স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। সময়ের সঙ্গে এই ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমে আসা স্বাভাবিক। তবে চার্জ দেওয়ার ধরন, ফোন কতটা গরম হচ্ছে এবং কতক্ষণ পুরো চার্জ অবস্থায় থাকছে, এসব বিষয় ব্যাটারির আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই প্রতিবার ১০০ শতাংশ চার্জ করলেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ব্যাটারির আয়ু যতটা সম্ভব দীর্ঘ রাখতে কিছু অভ্যাস মেনে চলা ভালো।

১০০ শতাংশ চার্জ করলে কি ব্যাটারি নষ্ট হয়?

না। প্রয়োজন হলে ফোন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়।

আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ব্যবস্থা থাকে। ফোন পুরো চার্জ হয়ে গেলে এটি আগের মতো অবিরাম চার্জ নিতে থাকে না। অনেক ফোনেই ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে চার্জিং ধীর করে দেওয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রায় চার্জ সীমিত রাখার সুবিধা রয়েছে।

তবে ব্যাটারিকে দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে রেখে দেওয়া নিয়মিত অভ্যাস হলে দীর্ঘমেয়াদে এর ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। এ কারণেই অনেক নির্মাতা চার্জ লিমিট বা অপটিমাইজড চার্জিংয়ের মতো সুবিধা দিয়েছে।

তাহলে ৮০ শতাংশ চার্জের কথা বলা হয় কেন?

ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের আশপাশে চার্জ সীমিত রাখার পরামর্শ অনেক ফোনেই দেখা যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাটারিকে দীর্ঘ সময় পুরো চার্জ অবস্থায় না রাখা।

উদাহরণ হিসেবে, আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলগুলোতে ব্যবহারকারী ৮০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে চার্জ সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। আইফোনের অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং সুবিধা চালু থাকলে ফোন প্রয়োজন অনুযায়ী ৮০ শতাংশের পর চার্জ কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে রাখতে পারে এবং ব্যবহার করার সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পুরো চার্জ করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সব সময় ৮০ শতাংশের বেশি চার্জ করা যাবে না। দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করতে হলে ১০০ শতাংশ চার্জ করাও স্বাভাবিক।

ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাপ

চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অ্যাপল জানিয়েছে, বেশি তাপমাত্রায় ফোন চার্জ বা ব্যবহার করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রেও গুগল অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় সেটি বালিশ, কম্বল বা এমন কোনো জায়গার নিচে রাখা উচিত নয় যেখানে তাপ বের হতে পারে না।

চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার। প্রয়োজন হলে চার্জার খুলে ফোন ঠান্ডা হতে দিন।

রাতভর চার্জে রেখে দিলে কি ফোন নষ্ট হবে?

আধুনিক স্মার্টফোনে রাতভর চার্জে রাখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমন নয়। অনেক ফোনেই পুরো চার্জ হওয়ার পর চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা থাকে।

অ্যাপলও জানিয়েছে, আইফোন রাতভর চার্জে রাখা নিরাপদ এবং অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং পুরো চার্জ অবস্থায় ফোনের থাকার সময় কমানোর চেষ্টা করে।

তবে দীর্ঘ সময় ফোনকে ১০০ শতাংশ চার্জে রাখা নিয়মিত অভ্যাস না করাই ভালো, বিশেষ করে যদি ফোন একই সময়ে গরম হয়ে থাকে।

চার্জ শূন্যে নামিয়ে তারপর চার্জ দিতে হবে?

এটিও একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।

আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিকে প্রতিবার শূন্য শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে তারপর চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অ্যাপল জানিয়েছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে আংশিকভাবে চার্জ দিলেও ব্যাটারির ক্ষতি হয় না।

বরং চার্জ একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন চার্জে দেওয়া যেতে পারে।

চার্জিং সাইকেল বলতে কী বোঝায়?

ব্যাটারির আয়ু বোঝার ক্ষেত্রে চার্জিং সাইকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একটি চার্জিং সাইকেল মানে একবার ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া নয়। বরং মোট ১০০ শতাংশ ব্যাটারি ব্যবহার করাকে একটি পূর্ণ সাইকেল হিসেবে ধরা হয়।

ধরা যাক, একদিন ফোনের ৭৫ শতাংশ চার্জ ব্যবহার করে আবার চার্জ দিলেন। পরদিন আরও ২৫ শতাংশ ব্যবহার করলেন। দুই দিনে মোট ১০০ শতাংশ ব্যাটারি ব্যবহার হওয়ায় সেটি একটি পূর্ণ চার্জ সাইকেলের সমান হবে।

ব্যাটারি যত বেশি চার্জ সাইকেলের মধ্য দিয়ে যায়, সময়ের সঙ্গে তার ধারণক্ষমতা কিছুটা কমতে থাকে।

২০ শতাংশের নিচে গেলেই চার্জ দিতে হবে?

২০ শতাংশকে কঠোর নিয়ম হিসেবে ধরার প্রয়োজন নেই।

তবে নিয়মিতভাবে ব্যাটারিকে একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে ফেলার অভ্যাস না করাই ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের যেকোনো সময় ফোন চার্জে দেওয়া যায়।

অ্যান্ড্রয়েডের গুগলও জানিয়েছে, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ঠিক রাখতে প্রতিবার শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বা ডিসচার্জ করার প্রয়োজন নেই।

অর্থাৎ ৩০ শতাংশ, ৪০ শতাংশ বা ৫০ শতাংশ চার্জ থাকলেও প্রয়োজন হলে ফোন চার্জ করা যায়।

সস্তা চার্জার ব্যবহার করা কি ঠিক?

চার্জারের মানও গুরুত্বপূর্ণ।

গুগল ফোনের সঙ্গে দেওয়া বা নির্মাতার অনুমোদিত পাওয়ার অ্যাডাপ্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত চার্জার ও কেবল ফোন বা ব্যাটারির ক্ষতি করতে পারে।

তাই শুধু সস্তা বলে অচেনা ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার না করাই ভালো। ফোনের নির্মাতার অনুমোদিত বা নির্ভরযোগ্য মানের চার্জার ব্যবহার করুন।

চার্জ দেওয়ার সময় ফোন ব্যবহার করা যাবে?

প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করা যায়। তবে ভারী গেম খেলা, উচ্চক্ষমতার অ্যাপ চালানো বা দীর্ঘ সময় ভিডিও রেকর্ড করার মতো কাজের সঙ্গে চার্জিং চললে ফোন বেশি গরম হতে পারে।

এখানে মূল বিষয় হলো তাপমাত্রা। ফোন অতিরিক্ত গরম হলে ব্যবহার বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দেওয়া ভালো।

বিশেষ করে গরম পরিবেশে চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখা জরুরি।

ব্যাটারি ভালো রাখতে কী করবেন?

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন: চার্জ দেওয়ার সময় ফোন বালিশ বা কম্বলের নিচে রাখবেন না।

প্রয়োজনে ১০০ শতাংশ চার্জ করুন: দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করতে হলে পুরো চার্জ করা নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার দরকার নেই।

সব সময় ১০০ শতাংশে আটকে রাখবেন না: ফোনে চার্জ লিমিট বা অপটিমাইজড চার্জিং সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

চার্জ পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা করবেন না: প্রয়োজন অনুযায়ী আংশিক চার্জ দেওয়া যায়।

ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন: নির্মাতার অনুমোদিত বা নির্ভরযোগ্য চার্জার ও কেবল ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত গরম হলে চার্জ বন্ধ করুন: ফোন অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে আগে কারণটি খুঁজে দেখুন।


৮০ শতাংশ না ১০০ শতাংশ, কোনটি ভালো?

দুটিই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।

যদি দিনের বেশির ভাগ সময় ফোন চার্জে রাখার সুযোগ থাকে এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে চার্জ লিমিট ৮০ বা ৯০ শতাংশের মতো নির্ধারণ করা যেতে পারে, যদি ফোনে সেই সুবিধা থাকে।

অন্যদিকে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা চার্জ দেওয়ার সুযোগ কম থাকলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা একেবারেই স্বাভাবিক।

অর্থাৎ ৮০ শতাংশ কোনো জাদুকরী সংখ্যা নয়। এটি মূলত ব্যাটারিকে দীর্ঘ সময় পুরো চার্জ অবস্থায় না রাখার একটি কৌশল।

১০০ শতাংশ চার্জ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে খুলতে হবে?

প্রতিবার ১০০ শতাংশ হলেই দৌড়ে গিয়ে চার্জার খুলতে হবে, এমন নয়।

আধুনিক ফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। তবে ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফোনকে নিয়মিতভাবে অনেকক্ষণ পুরো চার্জ অবস্থায় চার্জারে লাগানো না রাখাই ভালো। বিশেষ করে ফোন যদি একই সঙ্গে গরম হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

স্মার্টফোন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা নিজে কোনো ভুল নয়। প্রয়োজন হলে পুরো চার্জ করতেই পারেন। ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বরং বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ফোনকে অতিরিক্ত গরম না করা, অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে না রাখা এবং ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করার ওপর।

ফোনে যদি চার্জ লিমিট বা অপটিমাইজড চার্জিংয়ের সুবিধা থাকে, সেটি ব্যবহার করতে পারেন। আর সব সময় ৮০ শতাংশের নিয়ম মেনে চলতে না পারলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

সহজভাবে বললে, ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার মূল কথা হলো অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্টভাবে চার্জ দেওয়া।

সূত্র: টিভি ৯