বেকারত্ব দূর করতে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের’ বিশেষ উদ্যোগ

দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং খাতের হাত ধরে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে এবার চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট। যেখানে তরুণরা ঘরে বসেই দক্ষ হয়ে ওঠার পাশাপাশি সরাসরি খুঁজে নিতে পারবেন তাদের কাঙ্ক্ষিত কাজ।
শুক্রবার (১৫ মে) সফল ফ্রিল্যান্সারদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, নেটওয়ার্কিং আর ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে রাজধানীর কল্যাণপুরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘মেগা ইউনিটি কার্নিভাল ২০২৬’। যেখানে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল ও সম্ভাবনাময় শত শত তরুণ।
অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের কার্যালয় ও ডিজিটাল ল্যাব ঘুরে দেখেন।

তিনি বলেন, এটি অনেক বড় একটি প্ল্যাটফর্ম, যে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে থাকা শিক্ষিত বেকার যুবক এবং যুবনারীদের জন্য অনেক বড় একটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, ইনশাআল্লাহ্।
আমিনুল হক আরও বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে পেপাল-এর কথা উল্লেখ করা আছে। এবং আমরা পেপালের সাথে দ্রুত চুক্তিবদ্ধ হয়ে আপনাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করব।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর সাহে আলম বলেন, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ফ্রিল্যান্সিং করে বিদেশ থেকে টাকা আনতে পেপালসহ কয়েকটি কোম্পানি আছে। বাংলাদেশে সেগুলো চালু করার ব্যবস্থা করছেন তারেক রহমান।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ট্রেইনারদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সারা দেশে প্রশিক্ষণের গুণগতমান নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা শুধু নিজেদের জন্য কাজ করছি না, আমরা দেশ ও মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছি—যাতে বেকারত্ব দূর করতে পারি এবং তরুণ প্রজন্মকে কর্মসংস্থান দিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় প্রায় ৮১টি ব্রাঞ্চ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। স্বপ্ন আরও বড় করতে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আমরা প্রতিটি উপজেলায় অফিস করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ্।
অনুষ্ঠানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রশিক্ষণ কক্ষ, অত্যাধুনিক স্টুডিও এবং ডিজিটাল ল্যাবের সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন অতিথিরা। ডিজিটাল বাংলাদেশের হাত ধরে স্মার্ট কর্মসংস্থান গড়ার এই ধারা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
