logo
Advertisement

নজরকাড়া ফিচারে প্রথম ফোল্ডিং আইফোন আনল অ্যাপল, দাম কত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নজরকাড়া ফিচারে প্রথম ফোল্ডিং আইফোন আনল অ্যাপল, দাম কত
আইফোন ‘ডুও’। ছবি: অ্যাপল

উন্নত সিকিউরিটি, দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স এবং অ্যাপল ইকোসিস্টেমের দারুণ সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় আইফোন। এবার নতুন আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য ফিচার নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। নকশা, প্রসেসর, ক্যামেরা, ব্যাটার, স্টোরেজ, প্রতিটি বিষয়ে নিয়েই নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ ফোন ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’, এবং ফোল্ডেবল (ভাঁজযোগ্য) ফোন ‘ডুও’।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। এই সিরিজে তিনটি মডেল উন্মোচন করেছে বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিটি। আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন ‘ডুও’। ‘ডুও’ হলো পাসপোর্ট আকৃতির আইফোন ১৮ সিরিজের প্রথম ফোল্ডেবল (ভাঁজযোগ্য) ফোন। প্রায় ২০ বছর আগে বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপলের সিগনাচার ব্র্যান্ড আইফোনে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। ছবি: অ্যাপল
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। ছবি: অ্যাপল

আইফোনের তিনটি মডেলেই নতুন প্রজন্মের অ্যাপল প্রযুক্তি, উন্নত ক্যামেরা ও এআইকেন্দ্রিক ফিচার রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে এ২০ প্রো চিপ, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা এবং সিরি এআইয়ের মতো আপগ্রেডও রয়েছে। তাপ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছে নতুন ভ্যাপার চেম্বার প্রযুক্তি। পাশাপাশি ব্যাটারির নকশাতেও আনা হয়েছে উন্নতি।

আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সের যত ফিচার

নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও ক্যামেরায় এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড। নতুন দুই প্রো মডেলেই থাকছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি। ছয়টি পাতলা ব্লেডের এই প্রযুক্তি কম আলোতে ছবি তোলার মান ও গতি বাড়াতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে ম্যানুয়াল ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্ত হয়েছে বেশকিছু নতুন সুবিধা। প্রো কন্ট্রোলসের মাধ্যমে লেন্সের অ্যাপারচার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালেন্সের মতো সেটিংস ম্যানুয়ালি সমন্বয় করা যাবে। এ ছাড়া ক্যামেরার হিস্টোগ্রাম ব্যবহার করে ছবির বিভিন্ন অংশের এক্সপোজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা যাবে। ফলে ছবি তোলার সময় আলো, উজ্জ্বলতা ও রঙের ওপর ব্যবহারকারীরা আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন।

ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ক্যামেরা দিয়ে ডলবি এইচডিআর ভিশনে ৪কে ভিডিও ধারণ করা যাবে। শুটিংয়ের পর ভিডিওতে সিনেমাটিক ইফেক্টও যোগ করার সুযোগ থাকছে। ফোনের সামনের দিকে ছোট করা হয়েছে ডায়নামিক আইল্যান্ড। নতুন ডায়নামিক আইল্যান্ড একসঙ্গে তিনটি লাইভ অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করতে পারবে।

অ্যাপলের দাবি, আইফোন ১৮ প্রোতে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক করা যাবে। এআই সুবিধাতেও এসেছে নতুন পরিবর্তন। আইওএস ২৭-এর সঙ্গে নতুন সিরিতে যুক্ত হচ্ছে কনটেক্সচুয়াল অন-স্ক্রিন ইন্টেলিজেন্স। শুরুতে ইংরেজি ভাষায় বেটা সংস্করণে চালু হবে এই সুবিধা। অক্টোবরে ফরাসি, জাপানি, কোরিয়ান, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষাতেও এটি চালু করা হবে। এ ছাড়াও থাকছে ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা।

অ্যাপলের রেফারেন্স ইমেজের মাধ্যমে ছবি তোলার সময় সেন্সরে ধরা দৃশ্যটি পরে নির্ভুলভাবে দেখা যাবে। ছবি: অ্যাপল
অ্যাপলের রেফারেন্স ইমেজের মাধ্যমে ছবি তোলার সময় সেন্সরে ধরা দৃশ্যটি পরে নির্ভুলভাবে দেখা যাবে। ছবি: অ্যাপল

ব্যাটারিতেও বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-কে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেওয়া আইফোন হিসেবে তুলে ধরেছে অ্যাপল। দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধায় উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে প্রায় ১৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে। অথবা ৩০ মিনিটে ওয়্যারলেসভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে। দুই মডেলেই চারটি রঙের বিকল্প থাকছে ব্ল্যাক, সিলভার, গ্লেসিয়ার এবং বারগান্ডি। ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যাপলের সমগ্র কার্বন নিঃসরণকে কার্বন নিরপেক্ষ করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েই এই দুই মডেল উন্মোচন করেছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিটি।

দামও বেড়েছে নতুন মডেল দুটির। আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। ২০২৫ সালের মডেলের তুলনায় দুই ফোনের দামই বেড়েছে ১০০ ডলার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রি-অর্ডার। আর বাজারে পাওয়া যাবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে।

বিশেষ আকর্ষণ ‘ডুও’

পাসপোর্ট আকৃতির নতুন আইফোন ১৮ সিরিজের ফোল্ডেবল ফোনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডুও’। আইফোন সিরিজের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংস্করণ এটি। ‘ডুও’ খুললে ৭.৬ ইঞ্চির (১৯ সেন্টিমিটার) একটি আনুভূমিক স্ক্রিন পাওয়া যায়। বন্ধ অবস্থায় বাইরের ৫.৪ ইঞ্চির ডিসপ্লে ব্যবহার করা যাবে। খোলা অবস্থায় অ্যাপলের এযাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা আইফোন এটি। ২০১৭ সালের ‘আইফোন এক্স’-এর পর অ্যাপলের পণ্য তালিকায় ‘ডুও’-কে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইফোন ‘ডুও’-তে ডিসপ্লে পরিচালনার জন্য শক্তিশালী এ২০ প্রো চিপ এবং নিজস্ব সি২ মোডেম চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। ৬-কোর সিপিইউ, ৭-কোর জিপিইউ এবং ডুয়েল ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন মিলিয়ে ফোনটিকে এআই, গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য তৈরি করেছে অ্যাপল। কোম্পানিটির দাবি, সাসটেইন পারফর্মেন্স আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

একই সঙ্গে ব্যাটারিতেও বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। রয়েছে টানা ২৪ ঘণ্টা দুটি স্ক্রিন ব্যবহারের উপযোগী ব্যাটারি। পাশাপাশি দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধায় উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।

আইফোন ‘ডুও’। ছবি: অ্যাপল ট্র্যাক
আইফোন ‘ডুও’। ছবি: অ্যাপল ট্র্যাক

ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ‘ডুও’-তে রয়েছে ৪৮এমপি ডুয়েল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম। এর মধ্যে ৪৮এমপি ফিউশন মেইন এবং ৪৮এমপি ফিউশন আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। অপটিক্যাল-কোয়ালিটি জুম সর্বোচ্চ ২এক্স। সঙ্গে রয়েছে ১২এমপি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ভেতরের ডিসপ্লের নিচে থাকা ফেসটাইম ক্যামেরা।

ফোল্ডেবল ফোনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর সফটওয়্যার। আইওএস ২৭-কে নতুন ফর্ম ফ্যাক্টরের জন্য সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুই অ্যাপ পাশাপাশি চালানো, হ্যান্ডস-ফ্রি ফেস টাইম এবং বিভিন্ন কোণ থেকে ফোন ব্যবহার করার মতো সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন সিরি এআই ব্যক্তিগত তথ্য ও স্ক্রিনের প্রেক্ষিত বুঝে আরও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে। সিম-এর ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় পরিবর্তন। আইফোন ‘ডুও’ বিশ্বজুড়েই শুধুমাত্র ই-সিম; কোনও ফিজিক্যাল সিম স্লট নেই। ফলে একই ফোনে একাধিক মোবাইল প্ল্যান সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বদল করার সুবিধা থাকছে, তবে প্রচলিত সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

ব্যবসায়িক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি আইফোন ‘ডুও’ আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে। আর এর প্রি অর্ডার শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত হওয়া এই ‘ডুও’ হলো আইফোনের ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে দামী সংস্করণ।

আইফোন ‘ডুও’-র দামের এই ভিন্নতা নির্ভর করবে এর মেমোরি ক্যাপাসিটির ভেরিয়েন্টের ওপর। ২৫৬ জিবি আইফোন ‘ডুও’ মূল্য ধরা হয়েছে সর্বনিম্ন ১ হাজার ৯৯৯ ডলার আর সর্বোর্চ্চ ২ টিবি আইফোন ‘ডুও’-র মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৯ ডলার।

বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি ইএমইএ-এর ডিভাইস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো জানান, অ্যাপল দেরিতে বাজারে এলেও এক ঘোষণাতেই মানদণ্ড ও দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ অ্যাপল তাদের উৎপাদিত ফোল্ডেবল আইফোনের প্রতিটি ইউনিট বিক্রি করবে এবং এই লাভজনক বাজারের ৪০ শতাংশ শেয়ার দখল করবে। বিশেষ করে চীনের বাজারে, যেখানে ৮০ শতাংশ ফোল্ডেবল ফোন হুয়াওয়ের দখলে, সেখানে আইফোন ‘ডুও’ চীনা ক্রেতাদের নতুন করে ভাবাবে।

সূত্র: অ্যাপল, রয়টার্স, বিবিসি