Advertisement

এক রায়ে চিরতরে বদলে যেতে পারে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এক রায়ে চিরতরে বদলে যেতে পারে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের লোগো

একটি সংবেদনশীল বিষয়ে মামলা। অপেক্ষা কেবল সেই মামলার রায়ের। অতীতে আদলতে ধারাবাহিক পরাজয় বজায় থাকলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে। চিরতরে বদলে যেতে পারে মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মেটায় শিশুদের গোপনীয়তা বিষয়ক মামলাটি হয়েছে ২০২৩ সালে। গত মঙ্গলবার থেকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আদালত।

মামলায় মেটা হেরে গেলে তরুণদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রধানত ‘লাইক’ সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা এবং অবিরাম স্ক্রলিং ফিচার বন্ধ করা হতে পারে। এগুলোর সঙ্গে বাদী পক্ষ তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কিছু পরিবর্তন দাবি করেছে।

সেগুলো হলো, কিশোর ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা; ব্যবহারকারীদের মস্তিস্ককে প্রভাবিত করে এমন অ্যালগরিদম পরিবর্তন আনা; ছবিতে ব্যক্তির চেহারা বদলে দেয় এমন অনেক ইমেজ ফিল্টার সরিয়ে দেওয়; ভিডিও কনটেন্টের স্বয়ংক্রিয় প্লে বন্ধ করা; একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিষিদ্ধ করা এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন ক্ষণস্থায়ী পোস্টের ব্যবস্থা বন্ধ করা।

এসব ফিচার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য থেকে করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করেছে মেটা। ফিচার পরিবর্তনের পাশাপাশি মেটার কাছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, ওই সব ফিচার এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা; বিশেষ করে শিশু-কিশোররা যত বেশি সম্ভব এবং বেশি সময় ধরে প্ল্যাটফর্মগুলোতে থাকে। তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় কমানোও কঠিন করে তুলেছে মেটা। যেমন, তরুণদের বারবার অ্যাপগুলোতে ফিরিয়ে আনতে ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশু ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করে মেটা তাদের শোষণ করার পথ বেছে নিয়েছে। যাতে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং কোম্পানি তার ব্যবহারকারীভিত্তি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

মেটা অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র একটি বিবৃতিতে বলেন, আমরা এসব অভিযোগের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে প্রমাণেই আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট হবে—তরুণদের সহায়তা ও সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।