কথা বললেই ফোনে সেই জিনিসের বিজ্ঞাপন দেখতে পান, নেপথ্যে কী
-50bd63-720x405.webp)
বন্ধুর সঙ্গে বসে বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। আলোচনার বিষয় নতুন একটি জুতা কেনা বা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা। অথচ কিছুক্ষণ পরেই ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য কোনো অ্যাপ খুলতে গিয়ে দেখলেন, ঠিক সেই জুতা বা ভ্রমণের জায়গা নিয়ে বিজ্ঞাপন আসছে আপনার সামনে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে এবং প্রায়ই হয়। তখন মনে প্রশ্ন আসে, ফোন কি আমাদের ব্যক্তিগত কথোপকথন শুনছে?
আধুনিক স্মার্টফোনে মাইক্রোফোন, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ আছে, যেগুলো নির্দিষ্ট অনুমতি পেলে মাইক্রোফোনের ব্যবহার করতে পারে। তবে ফোনে কোনো বিষয়ে কথা বলার পর সেই বিষয়সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখা গেলেই যে ফোন গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করছে, তা না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখানোর পেছনে ব্যবহারকারীর সার্চের ইতিহাস, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন, ওয়েবসাইটে ঘোরাফেরা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং বিজ্ঞাপনের অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার কিছু অ্যাপকে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে সেগুলো কখন মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, তা জানা থাকাটাও জরুরি।
তাহলে ফোনে কথা বলার পর একই বিষয়ের বিজ্ঞাপন কেন দেখা যায়? কীভাবে বুঝবেন কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে? আর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন? চলুন জেনে নিই।
ফোন কি সত্যিই আপনার কথা শুনছে?
এর উত্তর এক কথায় হ্যাঁ বা না বলা কঠিন। ফোনে মাইক্রোফোন আছে এবং কিছু ফিচার চালু থাকলে এটি নির্দিষ্ট শব্দ বা নির্দেশ শনাক্ত করার জন্য অডিও প্রক্রিয়া করতে পারে। যেমন- গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা অ্যাপলের সিরির মতো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীর নির্দেশ গ্রহণ করতে মাইক্রোফোনের ব্যবহার করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে স্মার্টফোন সারাক্ষণ আপনার প্রতিটি কথা রেকর্ড করে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পাঠায়। বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য মূলধারার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
কোনো অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারবে কি না, তা অনেক ক্ষেত্রে ফোনের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট ফিচারের ওপর নির্ভর করে থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপকে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়াই ভালো।
কথা বলার পর সেই বিষয়েই বিজ্ঞাপন আসে কেন?
ফোন আপনার কথা শুনছে বলে মনে হওয়ার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে।
আপনার সার্চের ইতিহাস
আপনি হয়তো কয়েক দিন আগে অনলাইনে একটি জুতা খুঁজেছেন, কোনো পোশাকের ওয়েবসাইটে গিয়েছেন বা একটি পণ্যের ভিডিও দেখেছেন। পরে সেই পণ্য নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলার পর একই ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন।
বিজ্ঞাপনদাতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সার্চ, ওয়েবসাইটে যাওয়া এবং অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য কাজে লাগিয়ে আগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখান। ফলে বিজ্ঞাপনটি কথোপকথনের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে হলেও এর পেছনে আগের অনলাইন কার্যকলাপ থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপনের অ্যালগরিদম আপনার আগ্রহ অনুমান করে
অনলাইন বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা শুধু আপনি কী লিখে সার্চ করছেন, সেটির ওপর নির্ভর করে- তা না। আপনি কোন ধরনের ভিডিও দেখেন, কোন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেন, কী ধরনের পণ্যের পেজে সময় কাটান এবং কোন বিষয়গুলোতে আগ্রহ দেখান- সেসব তথ্যও বিজ্ঞাপন নির্বাচন করতে ব্যবহৃত হতে পারে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অ্যালগরিদম অনুমান করতে পারে, আপনি পরবর্তী সময়ে কোন পণ্য কিনতে আগ্রহী হতে পারেন। ফলে আপনি কোনো পণ্য নিয়ে কথা বলার পর সেটির বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হতে পারে, ফোন আপনার কথাই শুনেছে।
একই নেটওয়ার্ক বা পরিবারের সদস্যদের কার্যকলাপ
কিছু বিজ্ঞাপনব্যবস্থা বিভিন্ন ধরনের সংকেত ব্যবহার করে সম্ভাব্য আগ্রহ অনুমান করতে পারে। যেমন- একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি কোনো পণ্য খুঁজলে বা একই ধরনের বিষয়বস্তু দেখলে তাদের কাছে সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে।
তবে একই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলেই পরিবারের একজনের সব সার্চ অন্যজনের কাছে বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখানো হবে, এমন না। কোন তথ্য ব্যবহার করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নীতি, সেটিংস এবং বিজ্ঞাপনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
কাকতালীয় ঘটনা ও আমাদের মনোযোগ
ধরুন, আপনি সারাদিনে শত শত বিজ্ঞাপন দেখছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই হয়তো আপনার নজর কাড়ছে না। কিন্তু কোনো পণ্য নিয়ে কথা বলার পর ঠিক সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখলে বিষয়টি সহজেই মনে থাকে।
একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় মনোযোগের পক্ষপাত বা নির্বাচিত মনোযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। আমরা যে বিষয় নিয়ে ভাবি, তার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা পরে বেশি চোখে পড়ে। ফলে কাকতালীয়ভাবে দেখানো বিজ্ঞাপনও অনেক সময় ফোনের আড়ি পাতার প্রমাণ বলে মনে হতে পারে।
মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি
কিছু অ্যাপ ভয়েস মেসেজ, ভিডিও কল, অডিও রেকর্ডিং বা ভয়েস কমান্ডের জন্য মাইক্রোফোন ব্যবহার করে। আপনি কোনো অ্যাপকে এই অনুমতি দিয়ে থাকলে সেটি প্রয়োজনের সময় মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে।
তবে মাইক্রোফোনের অনুমতি আছে মানেই অ্যাপটি আপনার সব কথা রেকর্ড করছে, তা না। অ্যাপটি কখন, কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে বুঝবেন ফোনের মাইক্রোফোন ব্যবহার হচ্ছে কি না?
বর্তমান অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও আইফোনে মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা সক্রিয় হলে পর্দায় একটি ছোট নির্দেশক দেখা যায়। এটি ব্যবহারকারীদের বুঝতে সাহায্য করে যে কোনো অ্যাপ এসব সুবিধা ব্যবহার করছে।
অ্যান্ড্রয়েডের অনেক ফোনেই পর্দার ওপরের দিকে সবুজ নির্দেশক দেখা যায়। আইফোনে মাইক্রোফোন ব্যবহারের সময় সাধারণত কমলা রঙের নির্দেশক দেখা যায়। তবে ফোনের মডেল ও অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ অনুযায়ী নির্দেশকের ধরন আলাদা হতে পারে।
আপনি যখন কোনো কল করছেন না, ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করছেন না বা অন্য কোনো মাইক্রোফোননির্ভর ফিচার ব্যবহার করছেন না, তখনও যদি নির্দেশক দেখা যায়, তাহলে কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করুন।
মনে রাখবেন, নির্দেশক জ্বলে ওঠা মানেই গুপ্তচরবৃত্তি হচ্ছে, এমন নয়। এটি মাইক্রোফোন ব্যবহারের একটি সংকেত মাত্র।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মাইক্রোফোনের অনুমতি পরীক্ষা করবেন যেভাবে
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপের মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পরীক্ষা করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন-
- ফোনের Settings বা সেটিংস খুলুন।
- Privacy, Security and privacy অথবা Permission manager অপশনে যান। ফোনের মডেল অনুযায়ী নাম আলাদা হতে পারে।
- Microphone অপশনটি নির্বাচন করুন।
- কোন কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, তা দেখুন।
- যেসব অ্যাপের মাইক্রোফোনের প্রয়োজন নেই, সেগুলোর অনুমতি বন্ধ করে দিন।
- কোনো অ্যাপের মাইক্রোফোন প্রয়োজন হলেও সব সময় ব্যবহার করার দরকার না থাকলে, সম্ভব হলে শুধু অ্যাপ ব্যবহারের সময় অনুমতি দেওয়ার বিকল্প বেছে নিন।
অ্যান্ড্রয়েডের অনেক সংস্করণে দ্রুত সেটিংস থেকে মাইক্রোফোনের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আইফোনে মাইক্রোফোনের অনুমতি পরীক্ষা করবেন যেভাবে
আইফোন ব্যবহারকারীরাও সহজেই মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
- Settings খুলুন।
- Privacy & Security অপশনে যান।
- Microphone নির্বাচন করুন।
- যেসব অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, সেগুলোর তালিকা দেখুন।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের পাশে থাকা অনুমতি বন্ধ করে দিন।
আইফোনে App Privacy Report চালু থাকলে কোন অ্যাপ কখন মাইক্রোফোনসহ নির্দিষ্ট কিছু তথ্য বা ডিভাইসের সুবিধা ব্যবহার করেছে, সে সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এই ফিচারের তথ্যের পরিধি এবং প্রাপ্যতা অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
শুধু মাইক্রোফোন নয়, বিজ্ঞাপনের সেটিংসও পরীক্ষা করুন
ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার সীমিত করতে শুধু মাইক্রোফোনের অনুমতি বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য তথ্যের ওপরও নজর দেওয়া দরকার।
গুগলের বিজ্ঞাপন সেটিংস: গুগলের My Ad Center থেকে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী দেখানোর সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আপনি কোন তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, তা পর্যালোচনা করতে পারেন।
অ্যাপের ট্র্যাকিং অনুমতি: আইফোনে App Tracking Transparency-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটজুড়ে আপনার কার্যকলাপ অনুসরণ করার অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অ্যাপের অনুমতি: ক্যামেরা, অবস্থান, পরিচিতি এবং ফাইল ব্যবহারের অনুমতি শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপকে দিন। অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ রাখুন।
ব্রাউজারের গোপনীয়তা: কুকি, ওয়েবসাইটের অনুমতি এবং ব্রাউজিংয়ের গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা করুন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার কার্যকলাপ অনুসরণের সুযোগ কমাতে ব্রাউজারের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে পারেন।
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলেই কি বুঝবেন কেউ আড়ি পাতছে?
অনেকের ধারণা, ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া বা মোবাইল ডেটা বেশি খরচ হওয়া মানেই কোনো অ্যাপ গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করছে। কিন্তু এই ধারণার পক্ষে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ হতে পারে পুরোনো ব্যাটারি, পর্দার উজ্জ্বলতা, দুর্বল নেটওয়ার্ক, গেম বা ভিডিও চালানো এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বিভিন্ন অ্যাপ। একইভাবে ভিডিও দেখা, স্বয়ংক্রিয় ডাউনলোড বা অ্যাপ আপডেটের কারণেও ডেটা বেশি খরচ হতে পারে।
তাই ব্যাটারি বা ডেটার ব্যবহার অস্বাভাবিক মনে হলে ফোনের সেটিংস থেকে কোন অ্যাপ কতটা ব্যাটারি ও ডেটা ব্যবহার করছে, তা পরীক্ষা করুন। সন্দেহজনক অ্যাপ পাওয়া গেলে তার অনুমতি পর্যালোচনা করুন এবং প্রয়োজন হলে অ্যাপটি সরিয়ে ফেলুন।
স্মার্ট টিভিও কি আপনার কথা শুনতে পারে?
কিছু স্মার্ট টিভিতে ভয়েস কমান্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকে। এসব ফিচার চালু থাকলে টিভি নির্দিষ্ট শব্দ বা নির্দেশ শনাক্ত করতে অডিও প্রক্রিয়া করতে পারে। আবার কিছু টিভিতে Automatic Content Recognition বা ACR প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা দেখা কনটেন্ট শনাক্ত করে দর্শকের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে।
তবে ACR এবং মাইক্রোফোন দিয়ে কথোপকথন শোনা এক বিষয় নয়। দুটি আলাদা প্রযুক্তি, যাদের কাজও আলাদা। স্মার্ট টিভির গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ করতে-
- টিভির Settings থেকে Privacy বা Voice settings দেখুন।
- ভয়েস কমান্ডের প্রয়োজন না থাকলে সংশ্লিষ্ট ফিচার বন্ধ রাখুন।
- Automatic Content Recognition বা ACR-এর সেটিংস পরীক্ষা করুন।
- টিভির গোপনীয়তা নীতি পড়ে কোন তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তা জানুন।
- অপ্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ বা ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপনের বিকল্প বন্ধ করুন, যদি সেই সুবিধা থাকে।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে আরও যা করবেন
ফোনের গোপনীয়তা রক্ষায় কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস কাজে আসতে পারে।
- প্রয়োজন ছাড়া কোনো অ্যাপকে মাইক্রোফোন বা ক্যামেরার অনুমতি দেবেন না।
- অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে সেটি কী ধরনের অনুমতি চাইছে, তা খেয়াল করুন।
- ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করুন।
- অপরিচিত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা এড়িয়ে চলুন।
- সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না এবং অচেনা অ্যাপকে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
- গুগল, অ্যাপল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা এবং বিজ্ঞাপন সেটিংস পর্যালোচনা করুন।
- ফোনে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে অ্যাপের অনুমতি, ব্যাটারি ও ডেটা ব্যবহারের তথ্য পরীক্ষা করুন।
ফোনে কোনো বিষয়ে কথা বলার পর সেই বিষয়সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে এমন অভিজ্ঞতা মানেই ফোন সারাক্ষণ আপনার কথোপকথন রেকর্ড করছে, তা নয়। অনলাইন কার্যকলাপ, সার্চের ইতিহাস, বিজ্ঞাপনের অ্যালগরিদম এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেও বিজ্ঞাপন দেখানো সম্ভব।
তবু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে, কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞাপনের ব্যক্তিগতকরণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রযুক্তি পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার ভালো উপায়।
সূত্র: ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি ৯ বাংলার ‘Voice Assistant on Mobile: আপনার ফোন আপনার উপর আড়ি পাতছে? বুঝবেন কীভাবে?’ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক নরটন এ্যান্টিভাইরাসের ওয়েবসাইটের ‘Is my phone listening to me? Not how you think’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।
