logo
Advertisement

কম্পিউটার ধীর হওয়ার ৮ কারণ ও সমাধান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কম্পিউটার ধীর হওয়ার ৮ কারণ ও সমাধান
ছবি: প্রযুক্তি

কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, একটি সফটওয়্যার খুলতেই অনেক সময় লাগছে, ফাইল ওপেন হচ্ছে ধীরে, এমনকি সাধারণ কাজেও কম্পিউটার আটকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধরে নেন, কম্পিউটারটি হয়তো পুরোনো হয়ে গেছে। তবে সব সময় নতুন কম্পিউটার কেনার প্রয়োজন হয় না।

Advertisement

স্টোরেজ, RAM, স্টার্টআপ প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে ম্যালওয়্যার বা অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণেও কম্পিউটার ধীর হয়ে যেতে পারে। কারণটি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই আগের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। জেনে নিন কম্পিউটার ধীর হওয়ার আটটি সাধারণ কারণ ও সমাধান।

বেশি স্টার্টআপ প্রোগ্রাম

কম্পিউটার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হলে সিস্টেম চালু হতে বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি এসব প্রোগ্রাম ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকায় কম্পিউটারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

সমাধান: Windows-এর Task Manager থেকে Startup Apps অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার অনুমতি বন্ধ করে দিন।

স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ

কম্পিউটারের স্টোরেজ, বিশেষ করে Windows ইনস্টল করা সিস্টেম ড্রাইভ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে কর্মক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। অপ্রয়োজনীয় ফাইল, পুরোনো ডাউনলোড ও বড় সফটওয়্যার জমে থাকলেও জায়গা দ্রুত কমে যায়।

সমাধান: অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও সফটওয়্যার মুছে ফেলুন। Windows-এর নিজস্ব স্টোরেজ ক্লিনআপ সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অন্য ড্রাইভ বা ক্লাউডে সরিয়ে রাখাও ভালো।

RAM কম থাকা

একসঙ্গে অনেক সফটওয়্যার বা ব্রাউজার ট্যাব চালু করলে RAM-এর ওপর চাপ পড়ে। বিশেষ করে কম RAM-এর কম্পিউটারে এ কারণে সিস্টেম ধীর হয়ে যেতে পারে।

সমাধান: প্রয়োজন নেই এমন সফটওয়্যার ও ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ রাখুন। নিয়মিত একই সমস্যা হলে কম্পিউটারের সমর্থন অনুযায়ী RAM বাড়ানোর কথা ভাবতে পারেন।

পুরোনো HDD ব্যবহার

অনেক পুরোনো কম্পিউটারে এখনো HDD ব্যবহার করা হয়। HDD সাধারণত SSD-এর তুলনায় ধীর হওয়ায় Windows চালু করা, সফটওয়্যার খোলা এবং ফাইল ব্যবহারে বেশি সময় লাগতে পারে।

সমাধান: কম্পিউটার সমর্থন করলে HDD-এর পরিবর্তে SSD ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে Windows SSD-তে ইনস্টল করলে কম্পিউটার চালু ও সফটওয়্যার খোলার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার

কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার বা অন্য কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে গেলে তা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে পারে। এতে CPU, RAM ও অন্যান্য সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে কম্পিউটার ধীর হতে পারে।

সমাধান: Windows Security বা বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে নিয়মিত স্ক্যান করুন। অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড না করা এবং সন্দেহজনক ই-মেইল বা লিংকে ক্লিক না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কম্পিউটার অতিরিক্ত গরম হওয়া

কম্পিউটারের ভেতরে ধুলাবালি জমে গেলে বা কুলিং ফ্যান ঠিকমতো কাজ না করলে প্রসেসরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত তাপ থেকে হার্ডওয়্যার রক্ষা করতে অনেক সময় প্রসেসর নিজেই গতি কমিয়ে দেয়। ফলে কম্পিউটার ধীর মনে হতে পারে।

সমাধান: নিয়মিত কম্পিউটারের ভেতরের ধুলাবালি পরিষ্কার করুন। কুলিং ফ্যান ঠিকমতো ঘুরছে কি না দেখুন এবং ল্যাপটপ হলে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ করে ব্যবহার না করাই ভালো।

পুরোনো সফটওয়্যার ও ড্রাইভার

অপারেটিং সিস্টেম, ডিভাইস ড্রাইভার বা প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার দীর্ঘদিন আপডেট না করলে নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও স্থিতিশীলতায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সমাধান: Windows Update নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ড্রাইভার আপডেট করুন।

অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস

অনেক সফটওয়্যার বন্ধ করার পরও ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যায়। একসঙ্গে এমন অনেক প্রসেস চলতে থাকলে CPU ও RAM-এর ওপর চাপ বাড়ে।

সমাধান: Task Manager খুলে কোন সফটওয়্যার বেশি CPU বা মেমোরি ব্যবহার করছে তা দেখে নিন। প্রয়োজন না থাকা সফটওয়্যার বন্ধ করুন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম আনইনস্টল করুন। তবে কোনো সিস্টেম প্রসেসের কাজ না জেনে সেটি বন্ধ করা উচিত নয়।

কম্পিউটার ধীর হলেই নতুন ডিভাইস কেনার প্রয়োজন নেই। প্রথমে Task Manager-এ CPU, Memory ও Disk ব্যবহারের মাত্রা দেখে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করুন। স্টোরেজ খালি করা, অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করা, ম্যালওয়্যার স্ক্যান করা এবং সফটওয়্যার আপডেট করার মতো সাধারণ কিছু পদক্ষেপেই অনেক সময় কম্পিউটারের গতি ও কর্মক্ষমতায় উন্নতি আনা সম্ভব।

সূত্র: প্রযুক্তি