ফের ফাঁস সোর্স কোড, বিপাকে অ্যানথ্রোপিক

আবারও ফাঁস হলো এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কোডিং টুল ‘ক্লড কোড’-এর সম্পূর্ণ সোর্স কোড। ক্লড ফ্যামিলি এআই মডেলের নির্মাতা আমেরিকান এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক। একটি সাধারণ প্যাকেজিং ত্রুটির কারণে আবারও অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের ক্লডের সোর্স কোড ফাঁস করে দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সম্পূর্ণ সফটওয়্যার পণ্যে এমনটা কখনোই হওয়া উচিত নয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা গবেষক চাওফান শো আবিষ্কার করেন যে, অ্যানথ্রোপিকের ফ্ল্যাগশিপ কমান্ড-লাইন কোডিং টুল ‘ক্লড কোড’-এর সম্পূর্ণ সোর্স কোডের এনপিএম প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত একটি ৬০ মেগাবাইটের সোর্স-ম্যাপ ফাইলের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেছে।
প্রায় ৪০ লাখ সফটওয়্যার ডেভেলপারদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডেভ কমিউনিটির মতে, ফাইলটির মাধ্যমে যে কেউ প্রকাশিত বিল্ড থেকে এর অন্তর্নিহিত সম্পূর্ণ টাইপস্ক্রিপ্ট কোডবেস পুনর্গঠন করতে পারত। এনপিএম রেজিস্ট্রি হলো বিশ্বের বৃহত্তম পাবলিক সফটওয়্যার লাইব্রেরি, যা ডেভেলপাররা প্রোগ্রামিং টুল ডাউনলোড ও শেয়ার করার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন।
সোর্স কোড কী ও কেন গুরুত্বপূর্ণ
সফটওয়্যার দুনিয়ায় সোর্স কোড মানে হলো প্রোগ্রামারদের লেখা সেই আসল নির্দেশনা, যেখান থেকে পুরো সফটওয়্যার তৈরি হয়। সাধারণত কোনো কোম্পানি তাদের পণ্য বাজারে ছাড়ার সময় এই কোড সরাসরি প্রকাশ করে না। বরং সেটিকে কম্পাইল বা বান্ডল করে এমন একটি ফরম্যাটে দেয়, যা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সহজে বোঝা যায় না।
অন্যদিকে, সোর্স ম্যাপ হলো ডেভেলপারদের কাজের একটি সহায়ক ফাইল। এটি মূল সোর্স কোড ও প্রকাশিত, সংকুচিত কোডের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। ফলে কোনো সমস্যা হলে ডেভেলপাররা সহজেই বুঝতে পারেন, কোথায় ভুল হচ্ছে। কিন্তু এই ফাইলটি যদি ভুল করে ফাইনাল প্রোডাক্টের সঙ্গে প্রকাশ হয়ে যায়, তাহলে সেটি কার্যত পুরো ‘রেসিপি’ উন্মুক্ত করে দেয়।
ঠিক এমনটাই ঘটেছে অ্যানথ্রোপিকের ক্ষেত্রে। প্রভাবশালী চীনা ভাষী ওয়েব৩ গবেষণা ও তথ্য প্ল্যাটফর্ম ব্লকবিটসের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ প্রকাশিত ক্লড কোডের সর্বশেষ সংস্করণেও এই সোর্স-ম্যাপ ফাইলটি রয়ে গিয়েছিল। এই ফাইলের ভেতরে ছিল প্রায় এক হাজার ৯০৬টি মালিকানাধীন সোর্স ফাইলের পূর্ণ কোড। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ এপিআই ডিজাইন, টেলিমেট্রি বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, এনক্রিপশন টুল এবং বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে যোগাযোগের প্রোটোকলও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এবারই প্রথম নয়
ওয়েব৩ ও ব্লকচেইন-কেন্দ্রিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ওডেইলির মতে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই কারণে ক্লড কোডের একটি প্রাথমিক সংস্করণ ফাঁস হয়ে যায়। এর ফলে তৎকালীন অ্যানথ্রোপিক এনপিএম থেকে পুরোনো সংস্করণটি সরিয়ে ফেলা হয়। পরে সোর্স ম্যাপটিও মুছে ফেলা হয়। তবে, সমস্যাটি এখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দ্বন্দ্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্বন্দ্ব গড়িয়ে মামলায়। অ্যানথ্রোপিক চায় না তাদের তৈরি এআই গণ-নজরদারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন কোনো মারাত্মক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হোক। অন্যদিকে পেন্টাগন চায় চুক্তি অনুযায়ী তাদের সব শর্ত মেনে গণ-নজরদারির তথ্য হস্তান্তর করুক অ্যানথ্রোপিক। এমন উত্তেজনার মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের সোর্স কোড ফাঁস হওয়া অনেকেই স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখতে নারাজ।