logo
Advertisement

মোটরসাইকেলের পেছনে নম্বর প্লেট, যে কৌশলে মামলা দেয় এআই ক্যামেরা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মোটরসাইকেলের পেছনে নম্বর প্লেট, যে কৌশলে মামলা দেয় এআই ক্যামেরা
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ার বিষয়টি এখন চালকদের মধ্যে বেশ আলোচিত। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের প্রশ্ন—গাড়ির নম্বর প্লেট সাধারণত পেছনে থাকে, তাহলে সামনে থাকা ক্যামেরা কীভাবে নম্বর শনাক্ত করে মামলা দেয়?

Advertisement

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এআই ক্যামেরা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে ছবি তোলে না। প্যান-টিল্ট-জুম (পিটিজেড) প্রযুক্তির ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে এবং চলন্ত যানবাহনকে অনুসরণ করতে সক্ষম। অপটিক্যাল জুম ব্যবহার করে দূর থেকেও গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি স্পষ্টভাবে ধারণ করা যায়।

অর্থাৎ, কোনো মোটরসাইকেল ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে তার গতিবিধি ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে। এরপর ক্যামেরা সেটিকে অনুসরণ করে পেছনের নম্বর প্লেটের দিকে ঘুরে সেটির ছবি ধারণ করতে পারে। ফলে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পেছনে থাকার বিষয়টি এআইভিত্তিক নজরদারির ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরাগুলো লালবাতি অমান্য করা, স্টপলাইন অতিক্রম, ভুল পথে চলা, নির্ধারিত লেন ভাঙা, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ শনাক্ত করছে। কিছু ক্ষেত্রে হেলমেট না পরা এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও শনাক্ত করা হচ্ছে।

যেভাবে মামলা তৈরি হয়

এআই ক্যামেরায় কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট যানবাহনের ছবি ও নম্বরপ্লেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজে থাকা গাড়ির নিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিএমপির সার্ভারে পাঠানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তা যাচাই করেন। যাচাই শেষে মামলা বা আইনি নোটিশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত হলেও মামলা দেওয়ার আগে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। অর্থাৎ ক্যামেরা নিজে চূড়ান্তভাবমামলা করছে না; ক্যামেরা ও সফটওয়্যার প্রমাণ সংগ্রহ ও অপরাধ শনাক্ত করছে, এরপর পুলিশ তা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শুধু নম্বর নয়, অনুসরণও করে ক্যামেরা

ডিএমপির ব্যবহৃত পিটিজেড ক্যামেরার অন্যতম সুবিধা হলো এটি নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমে স্থির থাকে না। ক্যামেরা ঘুরিয়ে কোনো চলন্ত যানকে অনুসরণ করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জুম করে নম্বরপ্লেটের ছবি নেওয়া যায়। এ কারণে সামনে থেকে আসা মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও ক্যামেরা তার পেছনের অংশে ফোকাস করার সুযোগ পায়।

এ কারণেই এআই ক্যামেরা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট ঢেকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। গত ১৯ মে এমন একটি ঘটনায় লালবাগের বাসিন্দা লাবলু হক মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা সাদা টেপ দিয়ে ঢেকে চালাচ্ছিলেন। পরে ডিএমপি তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অস্পষ্ট, ছোট, পরিবর্তিত বা অননুমোদিত নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা এখনও চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া নিবন্ধনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ক্যামেরায় অপরাধ ধরা পড়লেও মালিকের তথ্য না থাকায় সরাসরি মামলা করা কঠিন।

ফলে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পেছনে থাকা মানেই এআই ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যাওয়া নয়। ক্যামেরা আগে অপরাধ শনাক্ত করে, এরপর মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করে পেছনের নম্বরপ্লেটের ছবি নেওয়ার সক্ষমতাই এখানে মূল বিষয়।