হোয়াটসঅ্যাপেও শিডিউল করা যাবে অডিও-ভিডিও কল

হোয়াটসঅ্যাপ এখন শুধু বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত আলাপ থেকে শুরু করে অফিসের বৈঠক, দলীয় আলোচনা কিংবা দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, নানা কাজেই ব্যবহার হচ্ছে এই অ্যাপ। ব্যবহারকারীদের যোগাযোগ আরও সহজ করতে সম্প্রতি এতে যুক্ত হয়েছে শিডিউল কলস ফিচার।
এই ফিচারের মাধ্যমে আগেই নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় ঠিক করে অডিও বা ভিডিও কলের আয়োজন করা যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কল বা অনলাইন মিটিংয়ের সময় আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা সম্ভব। অনেকটা জুম (Zoom) বা গুগল মিটের (Google Meet) মতোই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কল আয়োজন করা যায় হোয়াটসঅ্যাপেও।
শিডিউল কলস ফিচার কীভাবে কাজ করে?
শিডিউল কলস ফিচারটি মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গ্রুপের সঙ্গে আগাম কলের সময় নির্ধারণ করার সুবিধা দেয়। ব্যবহারকারী চাইলে কলের ধরন, অর্থাৎ অডিও বা ভিডিও, তারিখ ও সময় আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন।
কলের সময় নির্ধারণ করার পর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কলের লিংক শেয়ার করা যায়। নির্ধারিত সময়ের আগে অংশগ্রহণকারীরা নোটিফিকেশনও পাবেন। ফলে আলাদা করে প্রত্যেককে কলের সময় মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়।
হোয়াটসঅ্যাপে কল শিডিউল করার ধাপ
প্রথম ধাপ: প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি খুলুন। এরপর হোম স্ক্রিন থেকে কলস (Calls) ট্যাবে প্রবেশ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: কলস ট্যাবে গিয়ে নতুন কল তৈরির অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর Create Call Link অপশনটি নির্বাচন করুন।
তৃতীয় ধাপ: কল লিংক তৈরির পর অডিও অথবা ভিডিও কলের ধরন নির্বাচন করুন।
চতুর্থ ধাপ: এরপর Schedule Call অপশনে ক্লিক করুন। এখানে নতুন একটি স্ক্রিন খুলবে। সেখানে কলের তারিখ, সময় এবং কলের ধরন নির্ধারণ করতে পারবেন।
পঞ্চম ধাপ: সব তথ্য ঠিকভাবে সেট করার পর Next বাটনে ক্লিক করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: এবার যাদের কলটিতে যুক্ত করতে চান, তাঁদের নির্বাচন করুন। এক বা একাধিক ব্যক্তির পাশাপাশি কোনো গ্রুপকেও অংশগ্রহণকারী হিসেবে নির্বাচন করা যেতে পারে।
সপ্তম ধাপ: অংশগ্রহণকারী নির্বাচন সম্পন্ন হলে একটি ইউনিক কল লিংক তৈরি হবে। লিংকটি অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করুন। নির্ধারিত সময়ের আগে তাঁরা নোটিফিকেশন পাবেন এবং শেয়ার করা লিংকের মাধ্যমে কলটিতে যুক্ত হতে পারবেন।
শিডিউল করা কল কোথায় পাবেন?
আগে থেকে নির্ধারণ করা কলগুলো হোয়াটসঅ্যাপের কলস ট্যাব থেকেই দেখা যাবে। সেখানে শিডিউল করা কলের সময়, কলের ধরন, অংশগ্রহণকারী এবং কল লিংকের মতো প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
ফলে কোনো মিটিং বা গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের সময় ভুলে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। প্রয়োজন হলে আগে থেকেই নির্ধারিত কলের তথ্য দেখে সেটি পরিচালনা করা সম্ভব।
কেন ব্যবহার করবেন এই ফিচার?
শিডিউল কলস ফিচারটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে অফিসের মিটিং বা দলীয় আলোচনার ক্ষেত্রে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে বৈঠক করতে হলে আগেই কলের সময় ঠিক করে রাখা যায়। একইভাবে বিদেশে থাকা স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলার পরিকল্পনাতেও এই ফিচার ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া কোনো গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা, অনলাইন ক্লাস, দলীয় পরিকল্পনা কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের ক্ষেত্রেও এটি সুবিধাজনক। আগে থেকেই সময় নির্ধারণ করে রাখার কারণে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কাজের সঙ্গে কলের সময় মিলিয়ে নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপের শিডিউল কলস ফিচার যোগাযোগকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত অনলাইন মিটিং বা নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় কল করার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য এটি বেশ কার্যকর একটি সুবিধা।
সূত্র: প্রযুক্তি


