Advertisement

আপনার ফেসবুককে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আপনার ফেসবুককে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
একটু সচেতন হলেই ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ফেসবুকে আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের তথ্য শেয়ার করি। ছবি, ভিডিও, জন্মদিন, কোথায় ঘুরতে গিয়েছি, কার সঙ্গে আছি, এমনকি কোথায় কাজ করি বা পড়াশোনা করি, এসব তথ্য অনেক সময় নিজের অজান্তেই অন্যদের কাছে পৌঁছে যায়।

Advertisement

ফেসবুকে কিছু শেয়ার করা স্বাভাবিক। তবে সব তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন নেই। একটু সচেতন হয়ে Privacy Settings ঠিক করে নিলে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

পোস্ট কারা দেখতে পাবে, তা ঠিক করুন

ফেসবুকে কোনো পোস্ট দেওয়ার সময় সেটি কারা দেখতে পারবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পোস্ট Public করলে ফেসবুকের বাইরের মানুষও কিছু ক্ষেত্রে সেটি দেখতে পারে। আবার Friends নির্বাচন করলে সাধারণত শুধু ফেসবুকের বন্ধুদের জন্য পোস্টটি সীমিত রাখা যায়।

তাই ব্যক্তিগত ছবি, পারিবারিক তথ্য বা সংবেদনশীল কোনো বিষয় শেয়ার করার সময় Public-এর পরিবর্তে Friends বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো সীমিত audience বেছে নেওয়া ভালো।

পুরোনো পোস্টগুলোর privacy settings-ও একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে।

প্রোফাইলে বেশি ব্যক্তিগত তথ্য রাখবেন না

ফেসবুক প্রোফাইলে জন্মতারিখ, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বাসার ঠিকানা, কর্মস্থল বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া যায়। কিন্তু সব তথ্য সবার কাছে দেখানোর প্রয়োজন নেই।

বিশেষ করে ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা বা বাসার অবস্থানের মতো তথ্য Public রাখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে এসব তথ্যের visibility সীমিত করে দেওয়া যায়।

Friend Request গ্রহণে সতর্ক থাকুন

অপরিচিত কেউ Friend Request পাঠালেই গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা যোগাযোগের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কেউ পরিচিত বলে মনে হলেও প্রোফাইলটি আসল কি না দেখে নেওয়া ভালো। তার mutual friends, পুরোনো পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।

কে আপনাকে Friend Request পাঠাতে পারবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করুন

ফেসবুকে এমন সেটিংস রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় কারা আপনাকে Friend Request পাঠাতে পারবে।

যদি অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত অনুরোধ আসে, তাহলে এই সেটিংস পর্যালোচনা করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচিত মানুষের মধ্যেই অনুরোধ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা নিরাপত্তার জন্য ভালো অভ্যাস।

ফোন নম্বর ও ই-মেইল দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি দেখুন

আপনার ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে অন্যরা যেন সহজেই আপনার ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে না পায়, সে বিষয়েও privacy settings পরীক্ষা করা উচিত।

এতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যের সঙ্গে ফেসবুক প্রোফাইলের সরাসরি সংযোগ কিছুটা কমানো যায়।

পুরোনো পোস্ট ও ছবি একবার দেখে নিন

অনেক বছর আগে দেওয়া পোস্ট এখনো ফেসবুকে থেকে যেতে পারে। সেই পোস্টে এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে, যা এখন আর প্রকাশ্যে রাখতে চান না।

তাই মাঝে মাঝে নিজের Timeline ঘেঁটে পুরোনো পোস্ট, ছবি ও ট্যাগ করা কনটেন্ট দেখে নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে audience পরিবর্তন করা, পোস্ট সরিয়ে দেওয়া বা নিজের প্রোফাইল থেকে কোনো ট্যাগ সরিয়ে দেওয়া যায়।

Tagging নিয়ন্ত্রণ করুন

কেউ আপনাকে কোনো ছবিতে বা পোস্টে tag করলে সেটি আপনার প্রোফাইলেও দেখা যেতে পারে। তাই কে আপনাকে tag করতে পারবে এবং tag করা পোস্ট আপনার Timeline-এ কীভাবে দেখা যাবে, সেসব সেটিংস পরীক্ষা করে রাখা ভালো।

বিশেষ করে এমন কোনো ছবি বা পোস্টে tag করা হলে, যা আপনি নিজের প্রোফাইলে দেখাতে চান না, সেটি সরানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

Location শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

কোথায় আছেন বা কোথায় যাচ্ছেন, তা ফেসবুকে নিয়মিত প্রকাশ করা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে বাড়িতে কেউ নেই, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যাচ্ছেন বা নিয়মিত কোন জায়গায় যাতায়াত করেন, এমন তথ্য প্রকাশ্যে শেয়ার না করাই ভালো।

ছবি পোস্ট করার সময়ও মনে রাখা দরকার, ছবির সঙ্গে থাকা ক্যাপশন বা অন্যান্য তথ্য থেকে আপনার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Facebook-এ যুক্ত অ্যাপগুলো পরীক্ষা করুন

অনেক সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে Facebook দিয়ে লগইন করা হয়। এর ফলে সেই সেবার সঙ্গে Facebook অ্যাকাউন্টের কিছু তথ্য যুক্ত হতে পারে।

তাই Facebook-এর সঙ্গে কোন কোন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট যুক্ত রয়েছে, তা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা উচিত। যেসব অ্যাপ আর ব্যবহার করেন না, সেগুলোর access সরিয়ে দেওয়া ভালো।

Privacy Checkup ব্যবহার করুন

ফেসবুকে Privacy Checkup নামে একটি সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন privacy settings এক জায়গা থেকে পর্যালোচনা করা যায়।

এখানে কে আপনার তথ্য বা পোস্ট দেখতে পারবে, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয় এবং অন্যান্য privacy settings পর্যালোচনা করা যায়। তাই অনেক দিন ধরে privacy settings পরীক্ষা না করে থাকলে Privacy Checkup দিয়ে শুরু করা সহজ হতে পারে।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখুন

গোপনীয়তা রক্ষার প্রথম ধাপগুলোর একটি হলো অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা। সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে অন্য কেউ অনুমান করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

তাই দীর্ঘ ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো। একই পাসওয়ার্ড Facebook ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু করুন

শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে Two-factor authentication বা দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু রাখা যেতে পারে। এতে নতুন বা অপরিচিত ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত যাচাইকরণের প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে কেউ কোনোভাবে পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও অ্যাকাউন্টে ঢোকার ঝুঁকি কমানো যায়।

সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না

ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের লিংক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ হয়তো পুরস্কার, চাকরি, উপহার বা জরুরি কোনো তথ্যের কথা বলে একটি লিংকে ক্লিক করতে বলতে পারে।

অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করার আগে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে Facebook-এর মতো দেখতে কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে পাসওয়ার্ড বা লগইন তথ্য চাইলে সেটি আসল কি না যাচাই করা জরুরি।

নিজের প্রোফাইল অন্যদের চোখে কেমন দেখায়, তা দেখুন

Privacy settings ঠিক করার পর নিজের প্রোফাইলটি অন্য একজন সাধারণ Facebook ব্যবহারকারীর কাছে কেমন দেখা যায়, সেটি পরীক্ষা করা উপকারী।

এতে কোন তথ্য বা পোস্ট অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে Public হয়ে আছে কি না, তা বোঝা সহজ হয়।

সব তথ্য অনলাইনে শেয়ার করার প্রয়োজন নেই

ফেসবুকে privacy settings যতই ভালোভাবে করা হোক, অনলাইনে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে একটু ভেবে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে একটি সহজ প্রশ্ন করা যেতে পারে, এই তথ্যটি অপরিচিত মানুষ জানলে কোনো সমস্যা হবে কি না। উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে না দেওয়াই ভালো।

ফেসবুকের privacy নিরাপদ রাখার জন্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত privacy settings পরীক্ষা করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা, অপরিচিত Friend Request এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক লিংক থেকে দূরে থাকাই বড় কয়েকটি পদক্ষেপ।

সবচেয়ে ভালো হয় কয়েক মাস পরপর একবার নিজের Facebook privacy settings পর্যালোচনা করা। কারণ সময়ের সঙ্গে অ্যাকাউন্টে নতুন অ্যাপ যুক্ত হতে পারে, পুরোনো পোস্ট জমতে পারে এবং নিজের ব্যবহারের ধরনও বদলে যেতে পারে।

ফেসবুকে কী শেয়ার করবেন, তার পাশাপাশি কার সঙ্গে শেয়ার করবেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটু সচেতন থাকলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ রাখা সম্ভব।

সূত্র: ফেসবুক প্রাইভেসি সেন্টার