আরও ২৫০ কর্মী ছাঁটাই করল অ্যামাজন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুঃসংবাদ পেলেন মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের আড়াই শতাধিক কর্মী। ইমেইল ও খুদে বার্তায় তারা চাকরিচ্যুতির খবর পান। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা সবাই কোম্পানিটির ডিভাইস ও পরিষেবা বিভাগে কাজ করতেন। এ বিভাগে কিন্ডল ই-রিডার ও ইকো স্মার্ট স্পিকারের মতো পণ্য তৈরি করা হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামাজনের ডিভাইস ও পরিষেবা বিভাগের ২৫০ জনের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে কোম্পানিটি। চাকরিচ্যুত হওয়া বেশিরভাগ কর্মীই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
বুধবার ভোরে কর্মীদের খুদে বার্তা ও ইমেইলের মাধ্যমে চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ পাঠান কোম্পানিটির মানবসম্পদ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেরি রবিনসন। তিনি জানান, কোম্পানির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি অ্যামাজনও স্বীকার করেছে।
তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে কোম্পানিটির এই মুখপাত্র বলেন, আমরা অল্প কয়েকটি পদ বিলুপ্ত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই ছাঁটাইয়ের ফলে কোম্পানিটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে এবং তাদের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে কাজের আরও ভালো সমন্বয় ঘটবে।
অক্টোবরের শুরুতে ১ হাজার কর্মী ছাঁটাই
তবে এবারই প্রথম কর্মী ছাঁটাই করল না অ্যামাজন। চলতি মাসের শুরুতে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল কোম্পানিটি। সে সময় অ্যামাজনের এক মুখপাত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছিলেন, অল্পসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এসব পদের বেশির ভাগই কোম্পানিটির স্টোরস ব্যবসার আওতাভুক্ত ছিল।
তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রাহকদের জন্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা যাতে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে আমাদের দলের কাঠামো পর্যালোচনা করি। স্টোরস ব্যবসার কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা পরিবর্তন এনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, নতুন এই কাঠামো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজগুলো আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পদ বিলুপ্ত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পরিবর্তনকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কেন কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন?
অ্যামাজনের এক মুখপাত্রের বক্তব্য, কোম্পানির কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা এবং পণ্যের ভবিষ্যত পরিকল্পনার সঙ্গে কাজের ধরন আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ভূমিকা নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের নেতৃত্বের একটি মেমো প্রকাশ করে অ্যামাজন। গত সেপ্টেম্বরে লেখা ওই মেমোতে বলা হয়েছে, ‘এই পরিবর্তন আমাদের সবারই গ্রহণ করা প্রয়োজন। নতুন বিষয় শেখার জন্য সময় দিতে হবে। তা না হলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকব আমরা।’
মেমোতে আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনে সফটওয়্যার প্রকৌশলের কাজকর্মে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


