logo

কিবোর্ডের F ও J বাটনে উঁচু দাগ কেন থাকে, জানলে অবাক হবেন

কিবোর্ডের F ও J বাটনে উঁচু দাগ কেন থাকে, জানলে অবাক হবেন
ছবি: ভাস্কার ইংলিশ

কম্পিউটার বা ল্যাপটপের কিবোর্ড প্রতিদিনই ব্যবহার করেন। টাইপ করার সময় হয়তো খেয়াল করেছেন, F এবং J বাটনের ওপর ছোট্ট একটি উঁচু দাগ বা রেখা থাকে। কিন্তু কেন এই দুটি বাটনেই এমন দাগ দেওয়া হয়, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

অনেকে মনে করতে পারেন, এটি কিবোর্ডের নকশার অংশ। কেউ আবার এটিকে তৈরির সময়ের কোনো ত্রুটি বলেও ভাবতে পারেন। আসলে এই ছোট্ট দাগের পেছনে রয়েছে বেশ কাজের একটি কারণ। কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েও সঠিক জায়গায় আঙুল রাখার সুবিধা দিতেই F এবং J বাটনে এই বিশেষ চিহ্ন রাখা হয়।

F ও J বাটনে দাগ কেন থাকে?

এই উঁচু দাগকে সাধারণভাবে ট্যাকটাইল মার্কার বা হোম পজিশন মার্কার বলা হয়। টাচ টাইপিংয়ের সময় হাতের সঠিক অবস্থান বুঝতে এটি ব্যবহার করা হয়।

টাচ টাইপিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করা যায়। এই পদ্ধতিতে বাঁ হাতের তর্জনী F বাটনে এবং ডান হাতের তর্জনী J বাটনে রাখা হয়। আঙুল দিয়ে দাগটি অনুভব করলেই বোঝা যায়, দুই হাত সঠিক জায়গায় রয়েছে।

অর্থাৎ, F ও J বাটনের ছোট্ট দাগ আসলে আঙুলের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা বা চিহ্নের মতো কাজ করে।

কীভাবে কাজ করে এই ছোট্ট দাগ?

টাচ টাইপিংয়ে মাঝের সারির বাটনগুলোকে হোম রো বলা হয়। সাধারণ QWERTY কিবোর্ডে বাঁ হাতের আঙুলগুলো A, S, D ও F এবং ডান হাতের আঙুলগুলো J, K, L ও সেমিকোলন বাটনের ওপর অবস্থান করে।

এখানে দুই হাতের তর্জনী থাকে F ও J বাটনে। ফলে তর্জনী দুটি সঠিক জায়গায় থাকলে বাকি আঙুলগুলোও তুলনামূলক সহজে নির্দিষ্ট অবস্থানে রাখা যায়।

টাইপ করার সময় হাত কিছুটা নড়ে গেলেও কিবোর্ডের দিকে তাকানোর প্রয়োজন হয় না। আঙুল দিয়ে F বা J-এর উঁচু দাগ খুঁজে নিলেই আবার হাতকে হোম পজিশনে ফিরিয়ে আনা যায়।

দ্রুত টাইপ করার ক্ষেত্রে এর সুবিধা কী?

টাচ টাইপিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে টাইপ করা। বারবার কিবোর্ডের দিকে তাকাতে হলে টাইপ করার গতি কমে যেতে পারে এবং কাজের ধারাবাহিকতাও নষ্ট হয়।

F ও J-এর উঁচু দাগ আঙুলকে একটি স্পর্শভিত্তিক নির্দেশনা দেয়। ফলে টাইপিস্ট চোখ না সরিয়েও হাতের অবস্থান বুঝতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এতে টাইপ করার গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে সুবিধা হতে পারে।

শুধু টাইপিস্টদের জন্যই কি এই দাগ?

না। এই ধরনের স্পর্শভিত্তিক চিহ্ন দৃষ্টিনির্ভরতা কমিয়ে কিবোর্ডে হাতের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। ফলে যারা দৃষ্টিশক্তির ওপর কম নির্ভর করে কিবোর্ড ব্যবহার করেন, তাদের জন্যও এই চিহ্ন কার্যকর হতে পারে।

তবে F ও J-এর দাগ মূলত টাচ টাইপিংয়ের হাতের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

কিবোর্ডের ৫ নম্বর বাটনেও কি এমন দাগ থাকে?

অনেক পূর্ণ আকারের কিবোর্ডে ডান পাশে আলাদা নম্বর প্যাড থাকে। সেখানেও ৫ নম্বর বাটনে উঁচু চিহ্ন দেখা যায়। এর উদ্দেশ্য একই ধরনের। নম্বর প্যাড ব্যবহার করার সময় হাত না তাকিয়েই মাঝের অবস্থান বা সঠিক জায়গা শনাক্ত করতে এই চিহ্ন সাহায্য করে।

কেন F ও J বাটনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে?

এর কারণ টাচ টাইপিংয়ের প্রচলিত হাতের অবস্থান। F এবং J হলো হোম রোতে দুই হাতের তর্জনীর নির্দিষ্ট অবস্থান। তাই এই দুটি বাটনে স্পর্শে বোঝা যায় এমন চিহ্ন দিলে দুই হাতের অবস্থান সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

একবার তর্জনী দুটি F ও J-তে সঠিকভাবে বসে গেলে বাকি আঙুলগুলোও A, S, D এবং K, L, সেমিকোলনের মতো নির্দিষ্ট বাটনের ওপর রাখা যায়। এভাবেই কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করার ভিত্তি তৈরি হয়।

ছোট দাগ, কিন্তু কাজ গুরুত্বপূর্ণ

কিবোর্ডের F ও J বাটনের এই ছোট্ট উঁচু দাগ দেখতে খুব সাধারণ। প্রতিদিন কিবোর্ড ব্যবহার করলেও অনেকেই হয়তো এর গুরুত্ব খেয়াল করেন না। অথচ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাচ টাইপিং করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শভিত্তিক নির্দেশক।

তাই পরেরবার কিবোর্ডে টাইপ করার সময় F ও J বাটনে আঙুল রাখার আগে বা পরে ওই ছোট্ট দাগটি অনুভব করে দেখতে পারেন। বুঝতে পারবেন, এটি কোনো অপ্রয়োজনীয় নকশা নয়, বরং কিবোর্ড ব্যবহারের সুবিধার জন্য পরিকল্পিত একটি ছোট কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা।

সূত্র: টিভি ৯