logo
Advertisement

বাড়িতে পড়ে থাকা ফোনেই বানান সিকিউরিটি ক্যামেরা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বাড়িতে পড়ে থাকা ফোনেই বানান সিকিউরিটি ক্যামেরা
ছবি: আইস্টক

বাড়িতে পড়ে আছে পুরোনো একটি স্মার্টফোন? নতুন ফোন কেনার পর আগের ফোনটি হয়তো আর ব্যবহার করা হয় না। আলমারির ড্রয়ারে পড়ে থাকা সেই ফোনটিকেই আপনি চাইলে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে লাগাতে পারেন। আলাদা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা না কিনেও একটি পুরোনো ফোনকে সাধারণ সিকিউরিটি ক্যামেরার মতো ব্যবহার করা সম্ভব।

এর জন্য দরকার শুধু একটি পুরোনো স্মার্টফোন, আরেকটি ফোন এবং উপযুক্ত ক্যামেরা অ্যাপ। এমন অ্যাপের মাধ্যমে পুরোনো ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ঘরের নির্দিষ্ট জায়গা নজরে রাখা যায়। অন্য ফোন থেকে সেই ক্যামেরার লাইভ ভিডিও দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে নড়াচড়া শনাক্ত হলে নোটিফিকেশনও পাওয়া যায়। আলফ্রেডক্যামেরার (AlfredCamera) মতো অ্যাপ বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড (Android) ও আইওএস (iOS) ডিভাইসকে ক্যামেরা ও ভিউয়ার (viewer) হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়।

কী কী লাগবে?

শুরু করার আগে কয়েকটি জিনিস প্রস্তুত রাখুন-

  • ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করার একটি পুরোনো স্মার্টফোন
  • লাইভ ভিডিও দেখার জন্য আরেকটি ফোন বা ট্যাব
  • স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ
  • পুরোনো ফোন রাখার জন্য একটি স্ট্যান্ড বা ফোন হোল্ডার
  • দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য চার্জার বা নিরাপদ পাওয়ার সোর্স
  • একটি বিশ্বস্ত সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ

পুরোনো ফোনটি খুব নতুন বা শক্তিশালী হওয়া জরুরি নয়। তবে ফোনে ক্যামেরা, ওয়াইফাই (Wi-Fi) এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ চালানোর মতো অপারেটিং সিস্টেম থাকতে হবে। উদাহরণ হিসেবে আলফ্রেডক্যামেরার ক্ষেত্রে ক্যামেরা ডিভাইস হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা পরবর্তী সংস্করণ এবং আইওএস ১২ বা পরবর্তী সংস্করণ সমর্থিত। ভিউয়ার ডিভাইসের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ বা আইওএস ১৫ বা পরবর্তী সংস্করণ প্রয়োজন।

ধাপ ১: পুরোনো ফোনটি প্রস্তুত করুন

প্রথমে পুরোনো ফোনটি চার্জ দিন এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করে নিন। ফোনে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল থাকলে মুছে কিছু জায়গা খালি করে রাখা ভালো।

ক্যামেরা ফোনটি এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে ওয়াইফাই ভালোভাবে পাওয়া যায় এবং চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ফোনটিকে এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে দরজার সামনে, প্রবেশপথ, শিশুর ঘর বা ঘরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দেখা যায়। তবে এমন জায়গায় ক্যামেরা বসাবেন না, যেখানে অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ধাপ ২: দুই ফোনে ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করুন

এরপর পুরোনো ফোন এবং আপনার বর্তমান ফোনে একই সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করুন।

আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপে একটি ফোনকে ক্যামেরা এবং অন্যটিকে ভিউয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ পুরোনো ফোনটি যেখানে থাকবে, সেটি চারপাশের ভিডিও ধারণ করবে। আর আপনার বর্তমান ফোন হবে সেই ভিডিও দেখার মাধ্যম।

অ্যাপ ইনস্টল করার সময় Google Play Store বা Apple App Store-এর মতো অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করাই নিরাপদ।

ধাপ ৩: দুই ফোনকে যুক্ত করুন

অ্যাপ চালু করে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন। এরপর একটি ফোনকে ক্যামেরা এবং অন্যটিকে ভিউয়ার (Viewer) হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।

আলফ্রেডক্যামেরাতে একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে দুই ডিভাইস যুক্ত করা যায়। আবার QR কোড স্ক্যান করেও ডিভাইস পেয়ার করার ব্যবস্থা রয়েছে।

পেয়ার করার পর বর্তমান ফোন থেকে পুরোনো ফোনের ক্যামেরার লাইভ ফিড দেখা যাবে।

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় অনুমতি দিন

ক্যামেরা অ্যাপ ঠিকভাবে কাজ করার জন্য ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে। ভিডিও সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ছবি ও মিডিয়া অ্যাক্সেসের অনুমতিও চাইতে পারে।

আলফ্রেডক্যামেরার ক্ষেত্রে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, মিডিয়া এবং কিছু অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অন্য অ্যাপের ওপর প্রদর্শনের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

তবে কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অনুমতি চাইলে তা যাচাই না করে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।


ধাপ ৫: ফোনটি সঠিক জায়গায় বসান

ক্যামেরার অবস্থান পুরো ব্যবস্থাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি।

ফোনটি এমনভাবে রাখুন যেন ক্যামেরার সামনে কোনো দেয়াল, পর্দা বা আসবাবপত্র বেশি অংশ ঢেকে না দেয়। দরজার দিকে নজর রাখতে চাইলে ক্যামেরা এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে প্রবেশ করা ব্যক্তির মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

ফোনটি জানালার একেবারে সামনে রাখলে দিনের আলোয় ভিডিও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হয়ে যেতে পারে। আবার অন্ধকার ঘরে পুরোনো ফোনের ক্যামেরার নাইট ভিশন সীমিত হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে দিন ও রাত দুই সময়েই ভিডিও পরীক্ষা করে নিন।

শুধু লাইভ ভিডিও নয়, আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যায়

সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করলে পুরোনো ফোনকে শুধু লাইভ ক্যামেরা হিসেবে নয়, আরও কিছু কাজে ব্যবহার করা যায়।

নড়াচড়া শনাক্ত হলে সতর্কবার্তা: কিছু অ্যাপ ক্যামেরার সামনে নড়াচড়া শনাক্ত করে ভিউয়ার ফোনে নোটিফিকেশন পাঠাতে পারে। ফলে সারাক্ষণ লাইভ ভিডিও দেখার প্রয়োজন হয় না।

দুই দিকের অডিও: কিছু অ্যাপে ক্যামেরার সামনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে দূর থেকে কথা বলার সুবিধাও থাকে। আলফ্রেডক্যামেরাতে দুই দিকের অডিও ফিচার রয়েছে।

ভিডিও রেকর্ড: অ্যাপ ও ডিভাইসের ওপর নির্ভর করে ভিডিও রেকর্ড করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের ভিডিও বা নড়াচড়ার সময়ের ফুটেজ সংরক্ষণ করা যায়। তবে বিনামূল্যের ও প্রিমিয়াম সুবিধা আলাদা হতে পারে।

পুরোনো ফোনটি সারাক্ষণ চার্জে রাখবেন?

দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করলে পুরোনো ফোনটি পাওয়ারে সংযুক্ত রাখার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ফোনটি যদি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

ফোনটিকে বালিশ, বিছানা বা এমন কোনো জায়গার নিচে রাখবেন না যেখানে তাপ বের হতে পারে না। চার্জার ও কেবলও ভালো মানের হওয়া উচিত।

ব্যাটারি ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া, চার্জার বা কেবলে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলে সেই ফোনকে ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

ওয়াইফাই বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে?

পুরোনো ফোনের ক্যামেরা থেকে লাইভ ভিডিও দেখতে সাধারণত নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রয়োজন। ওয়াইফাই দুর্বল হলে ভিডিও আটকে যেতে পারে বা ক্যামেরা অফলাইন হয়ে যেতে পারে।

তাই ফোনটি বসানোর আগে আপনার বাড়ির যে জায়গায় ক্যামেরা থাকবে, সেখানে ওয়াইফাই সিগন্যাল কেমন তা পরীক্ষা করে নিন। রাউটার থেকে অনেক দূরের জায়গায় ক্যামেরা বসালে সংযোগের সমস্যা হতে পারে।

নিরাপত্তার বিষয়টি ভুলবেন না

পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরায় পরিণত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ডেটা নিরাপত্তা।

যে অ্যাপ ব্যবহার করবেন, সেটির ডেভেলপার, গোপনীয়তা নীতি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো দেখে নিন। কারণ এই ধরনের অ্যাপকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং ভিডিও ডেটার সঙ্গে কাজ করতে হয়।

উদাহরণ হিসেবে আলফ্রেডক্যামেরা জানিয়েছে, তাদের লাইভ ভিডিও ও অডিও স্ট্রিম 256-bit AES encryption ব্যবহার করে সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে তাদের গোপনীয়তা নীতিতে ভিডিও ও অডিওসহ বিভিন্ন ডেটা কীভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া করা হয়, তা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই শুধু অ্যাপটি জনপ্রিয় হলেই নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করুন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কোনো ডিভাইস যুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখুন।


ব্যক্তিগত জায়গায় ক্যামেরা বসাবেন না

বাড়ির নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করলেও অন্যের গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের জায়গা বা অন্য কারও ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বসানো উচিত নয়। বাড়িতে অন্য সদস্য, অতিথি বা কর্মী থাকলে ক্যামেরা কোথায় বসানো হয়েছে, তা তাদের জানানোও ভালো।

বিশেষ করে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।

পুরোনো ফোন কি সিসিটিভির পুরো বিকল্প?

সব ক্ষেত্রে নয়।

পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা কম খরচে একটি নির্দিষ্ট ঘর বা প্রবেশপথ নজরে রাখার জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু পেশাদার সিসিটিভি ক্যামেরায় যে ধরনের আবহাওয়া প্রতিরোধী বডি, নির্দিষ্ট নাইট ভিশন, স্থানীয় স্টোরেজ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা বা একাধিক ক্যামেরা ব্যবস্থাপনা থাকে, পুরোনো ফোনে সেগুলো সবসময় পাওয়া যাবে না।

তাই এটিকে কম খরচের নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে ভাবাই ভালো, পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সরাসরি বিকল্প হিসেবে নয়।

পুরোনো ফোনকে ক্যামেরা বানানোর সুবিধা

এই পদ্ধতির কয়েকটি বড় সুবিধা রয়েছে-

  • নতুন ক্যামেরা কেনার খরচ কমে যায়
  • পুরোনো ফোনটি পুনরায় কাজে লাগে
  • লাইভ ভিডিও দূর থেকে দেখা যায়
  • কিছু অ্যাপে নড়াচড়া শনাক্ত করার সুবিধা পাওয়া যায়
  • দুই দিকের অডিও ব্যবহার করা যায়
  • শিশুর ঘর, প্রবেশপথ বা পোষা প্রাণীর ওপর নজর রাখা যায়
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনের ক্যামেরা বদলে ব্যবহার করা যায়

আলফ্রেডক্যামেরার বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসকে এভাবে ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং অ্যাপটি পুরোনো স্মার্টফোনকে নিরাপত্তা ক্যামেরায় পরিণত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো স্মার্টফোনটি ফেলে না দিয়ে চাইলে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। একটি উপযুক্ত অ্যাপ, স্থিতিশীল ওয়াইফাই এবং সঠিক জায়গায় ফোন বসিয়েই তৈরি করা যায় সাধারণ একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবস্থা।

তবে ফোনটি দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার আগে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করুন, ক্যামেরা অ্যাপের অনুমতি ও গোপনীয়তা নীতি যাচাই করুন এবং অন্যের ব্যক্তিগত জায়গায় নজরদারি এড়িয়ে চলুন। এসব বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললে পুরোনো ফোনটি নতুন করে বেশ কার্যকর একটি কাজে লাগতে পারে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট