logo

কৃত্রিম ডিমে ফুটেছে ২৬ বাচ্চা মুরগি

কৃত্রিম ডিমে ফুটেছে ২৬ বাচ্চা মুরগি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি কলোসাল বায়োসায়েন্সেস (Colossal Biosciences) একটি কৃত্রিম ডিম ব্যবহার করে ২৬টি সুস্থ বাচ্চা মুরগি ফুটাতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানিটি এই সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে ২০২৬ সালের ১৯ মে।

এই অগ্রগতিকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিলুপ্ত প্রাণী যেমন ডোডো এবং নিউজিল্যান্ডের বিশাল আকারের মোয়া পাখিকে ফিরিয়ে আনার গবেষণায় অগ্রগতি হতে পারে।

কী এই কৃত্রিম ডিম প্রযুক্তি

কলোসালের তৈরি কৃত্রিম ডিম আসলে দুই অংশের একটি সিস্টেম। এতে একটি নরম সিলিকন-ভিত্তিক আধা-পরিবেশযোগ্য ঝিল্লি থাকে, যা একটি শক্ত হেক্সাগোনাল কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়।

এই ঝিল্লি প্রাকৃতিক ডিমের খোলসের মতো কাজ করে। এটি অক্সিজেন প্রবেশ করতে দেয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে, পাশাপাশি জীবাণু ঢোকা থেকে ভ্রূণকে সুরক্ষা দেয়।

কোম্পানির প্রধান জীববিজ্ঞান কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু পাস্ক বলেন, এই ঝিল্লিটি খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি, যা প্রাকৃতিক ডিমের মতোই গ্যাস আদান-প্রদান করতে পারে।

তার মতে, এটি এমন একটি জটিল প্রযুক্তি যা প্রাকৃতিক ডিমের কার্যকারিতাকে কৃত্রিমভাবে অনুকরণ করে।

ভ্রূণ পর্যবেক্ষণের নতুন সুযোগ

এই কৃত্রিম ডিমের উপরে একটি স্বচ্ছ অংশ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ডিম ভাঙা ছাড়াই ভেতরের ভ্রূণের বিকাশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এটি গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ডিমের ভেতরের বিকাশ পর্যায়গুলো আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

কেন এই প্রযুক্তি কঠিন ছিল

প্রচলিত কৃত্রিম ইনকিউবেশন পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল অক্সিজেন সরবরাহ। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অক্সিজেন দিতে হয়, যা ভ্রূণের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সফলতার হার কমিয়ে দেয়।

কিন্তু কলোসালের নতুন পদ্ধতিতে সিলিকন ঝিল্লির মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। এতে আলাদা করে অতিরিক্ত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

রসলিন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান খুঁজলেও পূর্ণাঙ্গ সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এই কৃত্রিম ডিম প্রযুক্তি সরাসরি বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক ধাপ নয়। বরং এটি ভ্রূণ বিকাশের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য একটি ইনকিউবেশন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

কোম্পানির লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিলুপ্ত ডোডো এবং বিশাল মোয়া পাখি ফিরিয়ে আনা। মোয়া পাখি একসময় প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা ছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের বড় পাখির ক্ষেত্রে সাধারণ ডিমের আকার সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। তাই কৃত্রিম ডিমের আকার পরিবর্তনযোগ্য হওয়ায় এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়া

বাইরের গবেষকরা এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও এখনও এটি সম্পূর্ণ সমাধান নয় বলে মনে করছেন।

কিছু বিজ্ঞানীর মতে, এটি একটি চমৎকার বায়োটেক উদ্ভাবন হলেও পুরো ডিম তৈরির সব উপাদান এখনো তৈরি হয়নি।

তাছাড়া কোম্পানিটি এখনও ২৬টি বাচ্চা ফুটানোর সফলতার হার বা পূর্ণ গবেষণা তথ্য প্রকাশ করেনি, ফলে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এটি পাখির ভ্রূণ গবেষণা এবং উন্নয়ন জীববিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বন্যপাখি সংরক্ষণে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো আবাসস্থল রক্ষা, শিকার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো।

কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের এই কৃত্রিম ডিম প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি জীববিজ্ঞান ও ডি-এক্সটিংশন গবেষণায় একটি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা আরও গবেষণার মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক