logo

কিবোর্ডের F1 থেকে F12 এর কাজ কী? জেনে নিন ১২ শর্টকাট

কিবোর্ডের F1 থেকে F12 এর কাজ কী? জেনে নিন ১২ শর্টকাট
ছবি: লিঙ্কড ইন

কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় আমরা সাধারণত অক্ষর, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন লেখার জন্য কিবোর্ড ব্যবহার করি। তবে কিবোর্ডের একেবারে ওপরের সারিতে থাকা F1 থেকে F12 পর্যন্ত বোতামগুলোর কাজ অনেকেরই অজানা।

এই বোতামগুলোকে বলা হয় ফাংশন কি (Function Key)।

ফাংশন কি ব্যবহার করে অল্প সময়ে অনেক কাজ করা যায়। ফাইলের নাম পরিবর্তন করা, ওয়েবপেজ রিফ্রেশ করা, বানান পরীক্ষা করা অথবা কম্পিউটারের কোনো উইন্ডো বন্ধ করার মতো কাজে এগুলো বেশ উপকারী। বিশেষ করে অফিসের কাজ, লেখালেখি ও নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সময় এই শর্টকাটগুলো সময় বাঁচাতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, সব কম্পিউটার বা সফটওয়্যারে ফাংশন কিগুলোর কাজ এক রকম না। অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং কিবোর্ডের ধরন অনুযায়ী কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

F1 থেকে F12 পর্যন্ত প্রতিটি কী-এর কাজ

F1: সাহায্য মেনু খুলতে

কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করার সময় কোনো বিষয়ে সাহায্য প্রয়োজন হলে F1 চাপলে অনেক প্রোগ্রামে হেল্প মেনু খুলে যায়। সেখান থেকে নির্দিষ্ট ফিচার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

F2: ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করতে

উইন্ডোজ কম্পিউটারে কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের নাম বদলাতে সেটি নির্বাচন করে F2 চাপুন। এরপর নতুন নাম লিখে Enter চাপলেই কাজ শেষ। Microsoft Excel-এ নির্বাচিত সেলের লেখা সম্পাদনা করতেও F2 ব্যবহার করা যায়।

F3: দ্রুত কিছু খুঁজে বের করতে

কম্পিউটারে কোনো ফাইল বা তথ্য খুঁজতে F3 কাজে লাগে। উইন্ডোজের File Explorer-এ এবং অনেক সফটওয়্যারে এটি সার্চ ফিচার চালু করতে বা খোঁজার পরবর্তী ফলাফল দেখতে সাহায্য করে।

F4: Alt + F4 দিয়ে উইন্ডো বন্ধ করতে

শুধু F4 নয়, কিবোর্ডের Alt বোতামের সঙ্গে F4 চাপলে সাধারণত সক্রিয় উইন্ডো বা অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়। কোনো নথিতে অসংরক্ষিত পরিবর্তন থাকলে বন্ধ করার আগে সেটি সংরক্ষণ করার বার্তা আসতে পারে।

F5: ওয়েবপেজ রিফ্রেশ করতে

ইন্টারনেট ব্রাউজারে কোনো ওয়েবপেজ নতুন করে লোড করতে F5 চাপতে পারেন। বারবার মাউস দিয়ে রিফ্রেশ বোতামে ক্লিক করার প্রয়োজন হয় না। তবে সব সফটওয়্যারে F5-এর কাজ এক নয়।

F6: ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে যেতে

ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করার সময় F6 চাপলে অনেক ব্রাউজারে অ্যাড্রেস বার নির্বাচন করা যায়। এতে মাউস ব্যবহার না করেই নতুন ওয়েবসাইটের ঠিকানা লেখা বা সার্চ শুরু করা সহজ হয়।

F7: বানান পরীক্ষা করতে

Microsoft Word-এর মতো কিছু সফটওয়্যারে F7 চাপলে বানান ও ভাষাগত ভুল পরীক্ষা করার সুবিধা চালু হয়। লেখালেখির কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। তবে ফিচারটি সফটওয়্যারের সংস্করণ ও ভাষার সেটিংসের ওপর নির্ভর করতে পারে।

F8: উইন্ডোজের স্টার্টআপ অপশনে যেতে

পুরোনো কিছু Windows সংস্করণে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় F8 চাপলে Advanced Boot Options মেনু খোলা যেত। সেখান থেকে Safe Mode নির্বাচন করা সম্ভব ছিল। তবে আধুনিক Windows কম্পিউটারে এই পদ্ধতি সাধারণত সরাসরি কাজ করে না। তাই F8 চাপলেই সব কম্পিউটারে Safe Mode চালু হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

F9: নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে কাজ দ্রুত করতে

F9-এর কাজ সফটওয়্যারভেদে আলাদা। Microsoft Word-এ এটি কিছু ফিল্ড আপডেট করতে পারে। আবার Microsoft Outlook-এর নির্দিষ্ট সংস্করণ ও সেটিংসে Send/Receive কমান্ড চালাতে ব্যবহার করা হয়। তাই সব কম্পিউটারে F9-এর একই কাজ আশা করা উচিত নয়।

F10: মেনু ব্যবহার ও রাইট-ক্লিক করতে

অনেক উইন্ডোজ সফটওয়্যারে F10 চাপলে মেনু বার সক্রিয় হয়। অন্যদিকে, Shift + F10 চাপলে নির্বাচিত ফাইল বা আইটেমের কনটেক্সট মেনু খোলে, যা মাউসের রাইট-ক্লিকের মতো কাজ করে। মাউস ব্যবহার করতে অসুবিধা হলে এই শর্টকাট কাজে লাগতে পারে।

F11: ফুল স্ক্রিন মোড চালু করতে

অনেক ওয়েব ব্রাউজারে F11 চাপলে ফুল স্ক্রিন মোড চালু হয়। এতে ব্রাউজারের কিছু অংশ আড়ালে চলে যায় এবং ওয়েবপেজ দেখার জন্য বেশি জায়গা পাওয়া যায়। আবার F11 চাপলে সাধারণ দৃশ্যে ফিরে আসা যায়।

F12: ফাইল সেভ বা ওয়েবসাইট পরীক্ষা করতে

Microsoft Word-এ F12 চাপলে সাধারণত Save As উইন্ডো খোলে। এর মাধ্যমে ফাইল নতুন নামে বা অন্য জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়। আবার অনেক ব্রাউজারে F12 চাপলে Developer Tools চালু হয়। ওয়েব ডেভেলপাররা ওয়েবসাইটের কোড ও বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা করতে এই সুবিধা ব্যবহার করেন।

ল্যাপটপে F1 থেকে F12 কাজ না করলে কী করবেন?

অনেক ল্যাপটপে ফাংশন কিগুলোর সঙ্গে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো-বাড়ানো, শব্দ নিয়ন্ত্রণ বা অন্য হার্ডওয়্যার ফিচারের কাজও যুক্ত থাকে। এ কারণে শুধু F1 বা F5 চাপলে প্রত্যাশিত কাজ নাও হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন-

Fn + F1 থেকে F12: অনেক ল্যাপটপে ফাংশন কিগুলোর সাধারণ কাজ ব্যবহার করতে Fn বোতামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কী চাপতে হয়।

Fn Lock: কিছু কিবোর্ডে Fn Lock চালু বা বন্ধ করে ফাংশন কিগুলোর আচরণ পরিবর্তন করা যায়।

কিবোর্ডের সেটিংস: নির্মাতাভেদে BIOS বা কিবোর্ড সেটিংসে ফাংশন কিগুলোর প্রাথমিক কাজ পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে।

আপনার ল্যাপটপের মডেল অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

ফাংশন কি ব্যবহার করলে কী সুবিধা?

ফাংশন কিগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মাউস দিয়ে একাধিক ধাপ পার না হয়েও নির্দিষ্ট কিছু কাজ দ্রুত করা যায়। যেমন, ফাইলের নাম বদলাতে F2, ওয়েবপেজ রিফ্রেশ করতে F5, আর কোনো উইন্ডো বন্ধ করতে Alt + F4 ব্যবহার করা যায়।

শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, লেখক, অফিসকর্মী কিংবা নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করেন এমন যে কেউ এই শর্টকাটগুলো শিখে রাখতে পারেন। তবে সব কী মুখস্থ করার চেয়ে নিজের দৈনন্দিন কাজে যেগুলো বেশি প্রয়োজন, সেগুলো আগে শিখে নেওয়াই ভালো।

কিবোর্ডের F1 থেকে F12 পর্যন্ত বোতামগুলো শুধু সাজানোর জন্য দেওয়া হয়নি। এগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারের নানা কাজ দ্রুত করা সম্ভব। কিছু শর্টকাট প্রায় প্রতিদিনই কাজে লাগতে পারে, আবার কিছু নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা পরিস্থিতিতে বেশি উপকারী। তাই নিজের কম্পিউটার ও ব্যবহৃত সফটওয়্যারে কোন কী কী কাজ করে, তা জেনে রাখলে কাজের গতি বাড়াতে সুবিধা হবে।

সূত্র: প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইট লজিটেক-এ ‘ F-Keys Demystified’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।