logo

কম্পিউটারে কখন শাটডাউন, কখন রিস্টার্ট করবেন

কম্পিউটারে কখন শাটডাউন, কখন রিস্টার্ট করবেন
ছবি: পিসি ওয়ার্ল্ড

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই দুটি অপশন দেখি, শাটডাউন (shutdown) এবং রিস্টার্ট (Restart)। অনেকেই মনে করেন, দুটির কাজ প্রায় একই। কারণ দুই ক্ষেত্রেই কম্পিউটার বন্ধ হয়ে আবার চালু করতে হয়। কিন্তু উইন্ডোজ (Windows) কম্পিউটারে এই দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

সাধারণভাবে দিনের কাজ শেষ হলে কম্পিউটার বন্ধ করার জন্য শাটডাউন ব্যবহার করা হয়। আর কম্পিউটারে কোনো সমস্যা হলে, নতুন সফটওয়্যার বা আপডেট ইনস্টল করার পর কিংবা সিস্টেমকে নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হলে রিস্টার্ট বেশি কার্যকর।


শাটডাউন কী?

শাটডাউন হলো কম্পিউটার বন্ধ করার প্রক্রিয়া। উইন্ডোজের Start মেনু থেকে Power অপশনে গিয়ে শাটডাউন নির্বাচন করলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়। Microsoft-এর তথ্য অনুযায়ী, উইন্ডোজ ১০ (Windows 10) ও উইন্ডোজ ১১ (Windows 11)-এ এই পদ্ধতিতেই কম্পিউটার সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়।

তবে এখানে একটি বিষয় জানা দরকার। আধুনিক Windows-এ Fast Startup নামে একটি সুবিধা রয়েছে। এটি চালু থাকলে শাটডাউন করার সময় Windows-এর কিছু সিস্টেম তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, যাতে পরের বার কম্পিউটার তুলনামূলক দ্রুত চালু হতে পারে।

অর্থাৎ শাটডাউন সবসময় রিস্টার্টের মতো পুরোপুরি নতুন করে উইন্ডোজ চালু করার সমান নয়।

রিস্টার্ট কী?

রিস্টার্ট অর্থ কম্পিউটার বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে আবার চালু করা। উইন্ডোজের রিস্টার্ট নির্বাচন করলে চলমান অ্যাপ, প্রসেস এবং সিস্টেমের প্রয়োজনীয় অংশগুলো বন্ধ হয়ে উইন্ডোজ আবার নতুন করে চালু হয়।

রিস্টার্ট করার পর উইন্ডোজ নতুন করে সিস্টেম চালু করে। তাই কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে, কোনো প্রোগ্রাম ঠিকমতো কাজ না করলে বা কোনো সিস্টেম সমস্যা দেখা দিলে রিস্টার্ট অনেক সময় দ্রুত সমাধান দিতে পারে।

শাটডাউন আর রিস্টার্টের মূল পার্থক্য কোথায়?

সহজভাবে বললে, শাটডাউন হলো কাজ শেষ করে কম্পিউটার বন্ধ করে রাখা। আর রিস্টার্ট হলো সিস্টেমকে বন্ধ করে আবার নতুন করে চালু করা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ছবি

কখন শাটডাউন করবেন?

দিনের কাজ শেষ হলে শাটডাউন করাই স্বাভাবিক পদ্ধতি। বিশেষ করে আপনি যদি কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত কম্পিউটার ব্যবহার না করেন, তাহলে সেটি বন্ধ করে রাখতে পারেন। যেমন-

  • অফিসের কাজ শেষ করেছেন
  • রাতে কম্পিউটার ব্যবহার করবেন না
  • দীর্ঘ সময় বাইরে থাকবেন
  • ব্যাটারি বা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চান
  • কম্পিউটার আর ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই

Microsoft-ও কম্পিউটার পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য শাটডাউন অপশন ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে।

কখন রিস্টার্ট করবেন?

কম্পিউটারে হঠাৎ কোনো সমস্যা হলে প্রথমেই রিস্টার্ট চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর হয়ে গেছে, কোনো অ্যাপ আটকে আছে, কোনো ডিভাইস ঠিকমতো কাজ করছে না বা কোনো সিস্টেম ফিচার সাড়া দিচ্ছে না।

এ ছাড়া উইন্ডোজ আপডেট বা নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করার পরও অনেক সময় রিস্টার্ট প্রয়োজন হয়।

Microsoft-এর তথ্য অনুযায়ী, রিস্টার্ট করার মাধ্যমে উইন্ডোজ আবার নতুন করে চালু করা যায়।


কম্পিউটার ধীর হলে শাটডাউন নাকি রিস্টার্ট?

এ ক্ষেত্রে সাধারণত রিস্টার্ট আগে চেষ্টা করা ভালো।

কম্পিউটার দীর্ঘ সময় চালু থাকলে বিভিন্ন অ্যাপ ও সিস্টেম প্রসেস চলতে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসবের কারণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। রিস্টার্ট করলে চলমান প্রসেসগুলো বন্ধ হয়ে উইন্ডোজ আবার নতুন করে চালু হয়।

তাই কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর হয়ে গেলে, বারবার আটকে গেলে বা কোনো প্রোগ্রাম ঠিকমতো কাজ না করলে রিস্টার্ট একটি সহজ প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে বারবার রিস্টার্ট করেও যদি একই সমস্যা থেকে যায়, তাহলে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। উইন্ডোজের নিজস্ব Recovery options-এ সমস্যা অনুযায়ী বিভিন্ন সমাধানের পথও রয়েছে।

আপডেট ইনস্টলের পর কী করবেন?

উইন্ডোজ বা অন্য কোনো সফটওয়্যার আপডেটের পর যদি রিস্টার্ট করার নির্দেশ আসে, সেটি উপেক্ষা না করাই ভালো। কারণ কিছু আপডেট কার্যকর হওয়ার জন্য সিস্টেমকে পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হতে পারে।

রিস্টার্ট করার সময় উইন্ডোজ প্রয়োজনীয় সিস্টেম পরিবর্তন সম্পন্ন করতে পারে। তাই আপডেটের পর রিস্টার্ট করার নির্দেশ এলে কাজটি শেষ করা উচিত।

শাটডাউন করেও কি কম্পিউটার ঠিক হতে পারে?

অবশ্যই পারে। অনেক সাধারণ সমস্যায় শাটডাউন করে কিছুক্ষণ পর আবার কম্পিউটার চালু করলেও উপকার পাওয়া যায়।

তবে উইন্ডোজের Fast Startup চালু থাকলে শাটডাউন এবং রিস্টার্টের আচরণ এক নয়। Fast Startup পরবর্তী চালুর সময় কিছু সিস্টেম তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত Windows চালু করতে পারে। অন্যদিকে রিস্টার্ট সাধারণত সম্পূর্ণ নতুন করে উইন্ডোজ বুট করে।

তাই কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যদি বিশেষভাবে সিস্টেমকে নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হয়, রিস্টার্ট বেশি উপযোগী হতে পারে।


স্লিপ (Sleep) কি শাটডাউনের মতো?

না। স্লিপ, শাটডাউন এবং রিস্টার্ট তিনটি আলাদা বিষয়।

স্লিপ মোডে কম্পিউটার পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এটি খুব কম শক্তি ব্যবহার করে অপেক্ষা করে এবং পরে দ্রুত আগের কাজের জায়গায় ফিরে আসতে পারে। Microsoft স্বল্প সময়ের জন্য কম্পিউটার থেকে দূরে থাকলে স্লিপ ব্যবহারের কথা বলে।

অন্যদিকে শাটডাউন কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়। রিস্টার্ট বন্ধ করার পর আবার নিজে থেকেই চালু করে।

তাই কয়েক মিনিটের জন্য দূরে গেলে স্লিপ, দিনের কাজ শেষে কম্পিউটার বন্ধ করতে শাটডাউন এবং সিস্টেম নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হলে রিস্টার্ট ব্যবহার করা যায়।

কম্পিউটার হ্যাং করলে কী করবেন?

প্রথমে কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করে দেখুন কম্পিউটার স্বাভাবিক হয় কি না। কোনো অ্যাপ আটকে গেলে সেটি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন।

সিস্টেম সাড়া দিলে রিস্টার্ট করা যেতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার একেবারেই সাড়া না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তখন জোর করে বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে, তবে এটি নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

যদি কম্পিউটার বারবার হ্যাং করে, বারবার রিস্টার্ট নিতে হয় বা উইন্ডোজ চালু হতে সমস্যা হয়, তাহলে সমস্যাটি শুধু সাধারণ সিস্টেম ধীর হওয়ার কারণে নাও হতে পারে। উইন্ডোজের Recovery Environment ও অন্যান্য troubleshooting ব্যবস্থা এ ধরনের সমস্যার জন্য ব্যবহার করা যায়।


তাহলে কোনটি কখন ব্যবহার করবেন?

খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারেন-

কাজ শেষ করে কম্পিউটার বন্ধ রাখতে চাইলে: শাটডাউন

কম্পিউটার ধীর বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে: রিস্টার্ট

উইন্ডোজ বা সফটওয়্যার আপডেটের পর: রিস্টার্ট, যদি সিস্টেম নির্দেশ দেয়

কিছুক্ষণের জন্য কম্পিউটার থেকে দূরে গেলে: স্লিপ

দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না: শাটডাউন

একটি ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন শাটডাউন করার চেয়ে রিস্টার্ট করাই কম্পিউটারের জন্য বেশি ভালো। বিষয়টি এতটা সরল নয়।

দুটির উদ্দেশ্য আলাদা। কম্পিউটার বন্ধ করে রাখতে চাইলে শাটডাউন যথেষ্ট। আর সিস্টেমকে নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হলে রিস্টার্ট ব্যবহার করা উচিত।

এ ছাড়া কম্পিউটারে কোনো সমস্যা না থাকলে শুধু কম্পিউটার ভালো রাখার জন্য বারবার রিস্টার্ট করারও প্রয়োজন নেই।

শাটডাউন আর রিস্টার্ট দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও উইন্ডোজ কম্পিউটারে তাদের কাজ এক নয়। শাটডাউন মূলত কম্পিউটার বন্ধ করে রাখার জন্য, আর রিস্টার্ট সিস্টেমকে বন্ধ করে নতুন করে চালু করার জন্য।

তাই দিনের কাজ শেষে কম্পিউটার ব্যবহার না করলে শাটডাউন করুন। আর কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে, কোনো সিস্টেম সমস্যা দেখা দিলে বা আপডেটের পর প্রয়োজন হলে রিস্টার্ট করুন। সঠিক সময়ে সঠিক অপশন ব্যবহার করলে কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও আরও সহজ হবে।

সূত্র: টিভি ৯