কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করুন সহজেই

ইন্টারনেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো সেখানে সহজেই প্রাণী, মানুষ বা অদ্ভুত ঘটনার ভিডিও দেখা যায়। কিন্তু এখন সেই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন সমস্যা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও এতটাই বাস্তবের মতো হয়ে উঠছে যে কোনটি সত্য আর কোনটি বানানো, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত কয়েক বছরে এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হয়েছে। আগে যেখানে এ ধরনের ভিডিও অস্বাভাবিক বা কার্টুনের মতো লাগত, এখন অনেক সময় একেবারে বাস্তব দৃশ্যের মতো মনে হয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভুল করে এ ধরনের কনটেন্ট শেয়ার করে ফেলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে বোঝা যায় কোনো ছবি বা ভিডিও কৃত্রিমভাবে তৈরি কি না। কিছু সহজ বিষয় খেয়াল করলেই বিভ্রান্তি অনেকটা কমানো সম্ভব।
ভিডিওতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন খুঁজে দেখুন
এআই ভিডিওতে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো দৃশ্যের ভেতরের অসংগতি। অনেক সময় দেখা যায় কোনো প্রাণী বা বস্তু হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যাচ্ছে বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ভিড়ের দৃশ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। একাধিক মানুষ বা প্রাণী একসঙ্গে থাকলে তাদের আকৃতি বা অবস্থান অস্বাভাবিকভাবে বদলে যেতে পারে। বাস্তব ভিডিওতে এমন পরিবর্তন হয় না।
ভিডিও বা ছবির মান অস্বাভাবিক হলে সতর্ক থাকুন
অনেক এআই ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা বা কম মানের দেখানো হয়। কারণ, এতে ভেতরের ভুলগুলো সহজে চোখে পড়ে না। বাস্তব সময়ের স্মার্টফোন ক্যামেরায় সাধারণত পরিষ্কার ভিডিও পাওয়া যায়। তাই আধুনিক যুগে খুব ঝাপসা ভিডিও দেখলে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। ছবি বা ভিডিওতে লেখা থাকলে সেটিও লক্ষ্য করা জরুরি। অনেক সময় অক্ষর এলোমেলো হয়ে যায় বা সঠিকভাবে লেখা থাকে না।
শব্দ ও ভিডিওর মিল না থাকলে সন্দেহ করুন
এআই প্রযুক্তি ছবি, ভিডিও এবং শব্দ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সবকিছু একসঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দিতে এখনও সমস্যা হয়। অনেক সময় দেখা যায় ভিডিওর পরিবেশের সঙ্গে শব্দের মিল নেই। কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক শোনায় বা একই ধরনের যান্ত্রিক অনুভূতি পাওয়া যায়।
কখনও কখনও শব্দ খুব বেশি নাটকীয় বা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে, যা বাস্তব মানুষের কথার মতো শোনায় না।
আবেগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা
অনেক ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয় যাতে মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয়। যেমন—রাগ, ভয় বা সহানুভূতি তৈরি করা। এ ধরনের ভিডিও সাধারণত দ্রুত শেয়ার করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করা হলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কোনো ভিডিও খুব বেশি আবেগ তৈরি করলে সেটি আগে যাচাই করা উচিত।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দেখে বোঝার চেষ্টা
কোনো ভিডিও কোথা থেকে এসেছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন খোলা অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ করে ভাইরাল ধরনের ভিডিও আসলে সতর্ক হওয়া ভালো। যেসব অ্যাকাউন্ট একই ধরনের ভিডিও বারবার পোস্ট করে বা সারাক্ষণ পোস্ট করতে থাকে, সেগুলো অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় বা ভুয়া হতে পারে।
ছবিতে কৃত্রিমতার লক্ষণ
এআই দিয়ে তৈরি ছবিতেও কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। মানুষের মুখ অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত লাগে। ত্বকে দাগ বা স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা থাকে না। চুল এবং আলোও খুব বেশি সাজানো মনে হয়।
ছবির পেছনের অংশও অদ্ভুত লাগতে পারে। কোথাও দরজা, জানালা বা বস্তুগুলোর গঠন ঠিকভাবে মিলবে না। ভিড় থাকলে মানুষের মুখ বিকৃত বা অস্পষ্ট দেখাতে পারে।
ডিপফেক ভিডিওর ঝুঁকি
ডিপফেক হলো এমন প্রযুক্তি যেখানে আসল ভিডিওর ওপর অন্য কারও মুখ বসানো হয়। এটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। তবে কাছ থেকে দেখলে মুখের চারপাশে হালকা ঝাপসা ভাব বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত নড়াচড়া করলে এই সমস্যা বেশি বোঝা যায়।
এআই প্রযুক্তি প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ছবি বা ভিডিও সত্য না মিথ্যা বোঝা আরও কঠিন হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় ভুয়া কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। ফলে ব্যবহারকারীদের নিজেকেই সচেতন হতে হয়।
ইন্টারনেটে দেখা প্রতিটি ছবি বা ভিডিও বাস্তব না-ও হতে পারে। তাই যে কোনো কনটেন্ট শেয়ার করার আগে কিছুক্ষণ থেমে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট অসংগতি খেয়াল করলে অনেক সময়ই বোঝা যায় কোনটি সত্য এবং কোনটি কৃত্রিমভাবে তৈরি।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
.png)

