ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, বাংলাদেশে আঘাত আনার আশঙ্কা কতটুকু

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি যে স্থানে অবস্থান করছে, সেখানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ, জলবায়ু গবেষক ও বিজ্ঞান লেখক মোস্তফা কামাল পলাশ।
সেই সঙ্গে আগামীকাল রোববার (২৫) অক্টোবর আরও শক্তিশালী হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে এবং সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলের ওপর দিয়ে ভারতের স্থলভাগে আঘাত করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান।
পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, গতকাল শুক্রবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। জাপানের হিমাওয়ারি-৯ নামক কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা বেজে ২০ মিনিটের সময় নিম্নচপাটির কেন্দ্রে প্রায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০ দশমিক ১২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ওপরে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি যে স্থানে অবস্থান করছে, সেই স্থানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে আজ শনিবার সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ বলেন, আগামীকাল রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে এটি কিছুটা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে আগামীকাল রোববার (২৫) অক্টোবর আরও শক্তিশালী হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে এবং সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্নব’।
সাম্ভব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি আগামী মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে বুধবার দুপুরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলের ওপর দিয়ে ভারতের স্থলভাগে আঘাত করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থা সাম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টা বাতাসের গতিবেগ ৮৯ কিলোমিটার থেকে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে আঘাতের সময় এটির শক্তি কিছুটা কমে গিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন স্ট্রম (ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটার থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত) হিসাবে আঘাত করার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত করার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ওপরে পড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষকদের জন্য বৃষ্টিপাত পূর্বাভাস
মোস্তাফা কামাল পলাশ বলেন, আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, বান্দরবন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, রাঙামাটি জেলা ছাড়া দেশের অন্য ৬০টি জেলার ওপরে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। ২৭ অক্টোবর হালকা পরিমাণে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। ২৮ ও ২৯ তারিখে পুরো দেশের ওপরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে। জমিতে পাকা ধান থাকলে আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ধান কেটে মাড়াই করার পরামর্শ দেন তিনি।
সমুদ্রগামী জেলে ও নৌযান চলাচলের জন্য ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ও সতর্কতা
তিনি বলেন, আজ শনিবার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ক্রমশ উত্তাল হতে শুরু হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তাই গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের আগামীকাল ২৫ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার এবং ২৬ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না থাকার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।
লবণচাষিদের জন্য পরামর্শ
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, কক্সবাজার জেলার লবণচাষিদের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে যে জমিতে যদি তুলে ফেলার মতো কোনো লবণ থাকে, তবে তা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তুলে ফেলা কিংবা জড়ো করে রাখলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকবে।

