logo

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, নামের অর্থ কী? আঘাত হানতে পারে যেখানে

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, নামের অর্থ কী? আঘাত হানতে পারে যেখানে
প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ‘মুরাসু’ নামের এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-এ পরিণত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার দুপুরে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর (১২.০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে) এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

কোথায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরের মধ্যে ভারতের নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ অতিক্রম করতে পারে।

এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

‘মুরাসু’ নামের অর্থ কী?

ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’। এটি তামিল ভাষার একটি শব্দ। এর অর্থ ঢোল বা রণঢাকজাতীয় বাদ্যযন্ত্র। প্রাচীনকালে যুদ্ধের ঘোষণা, দুর্যোগের সতর্কবার্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচারে এ ধরনের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো। ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করেছে ভারত।

সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের। ‘বীরা মুরাসু’ ব্যবহার করা হতো যুদ্ধের ঘোষণা দিতে। ‘ত্যাগা মুরাসু’ বাজানো হতো দরিদ্রদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার আহ্বান জানাতে। আর ‘ন্যায় মুরাসু’ ব্যবহার করা হতো বিচারকার্য পরিচালনা ও জনগণের অভিযোগ শোনার ক্ষেত্রে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ওড়িশায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) বিভিন্ন সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসনও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার থেকে ওড়িশায় বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।