কবে নামবে শীত, নতুন বার্তা

আশ্বিনের বিদায় আর কার্তিকের আগমনে প্রকৃতিতে বদলের আভাস মিলতে শুরু করেছে। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও রাত ও ভোরের আবহাওয়ায় আসছে শীতের আমেজ। দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী হাওয়া। তবে সারা দেশে শীতের প্রকোপ বাড়তে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সারা দেশে শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে। আর ডিসেম্বর থেকে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষভাগে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। শনিবার সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
২০ ও ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাসের শেষদিকে তাপমাত্রা কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছিলেন, তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অনুভূতিতে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও সকাল ও রাতে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের আগমন ঘটতে পারে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তার মতে, এবার ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর দিনের তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করতে পারে।
মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ায় দেশে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। এরই মধ্যে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শীতের আগমনী হাওয়া অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এই ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অনুভূতিতে এখনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
শনিবার সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শেষভাগে রাত ও ভোরে শীতল আবহাওয়ার অনুভূতি বাড়তে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। তবে তাপমাত্রা কতটা কমবে এবং শীত কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে ওই সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।
