logo

ফের ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন নিম্নচাপ

ফের ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন নিম্নচাপ
ঘূর্ণিঝড়ের প্রতীকী চিত্র। ছবি: নাসা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (৯.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০.৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে) আজ দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

এ দিকে, শক্তি বাড়াতে থাকা এই নিম্নচাপ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘মুরাসু’। এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে।

আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তামিল ভাষার ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে ভারত। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে এর শক্তি সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় কম হতে পারে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তখন ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

নতুন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

২ নভেম্বর বিকেলে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ওই দিন সকালে বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।