ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি কমবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়েছে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়ছে। দিন-রাতের এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া আরও চার থেকে পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। একই সময়ে চট্টগ্রামে ৭৪, রংপুরে ৮৫, ময়মনসিংহে ৭৫, সিলেটে ৭৯, খুলনায় ৮০ এবং বরিশালে ৭৪ শতাংশ আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে দেশে দক্ষিণমুখী বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। শরীরে ঘাম হলেও তা সহজে শুকাচ্ছে না। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় গরমের অনুভূতি ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি আরও চার থেকে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি না হলে স্বাভাবিকভাবেই গরমের অনুভূতি বাড়ে। আবার পরিবেশে জমে থাকা তাপের কারণে বৃষ্টি হলেও সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে না। অনেক সময় এতে সাময়িকভাবে অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, দিনের বেলায় বাতাসের আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের বেশি হলে গরমের অনুভূতি বাড়তে থাকে। বর্তমানে বাতাসের গতিও তুলনামূলক কম। ফলে তাপ ও জলীয় বাষ্প দ্রুত সরে যেতে পারছে না। এ কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
নগর এলাকায় জ্বালানি পোড়ানো, যানবাহনের ধোঁয়া, ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতি, রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কুলারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ঢাকায় তাপ জমে থাকার প্রবণতাও রয়েছে বলে জানান তিনি। এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাতের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃষ্টি হলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এতে কয়েক দিন ধরে চলা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি থেকেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।



