যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার মুখে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারীরা এখন যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে ফার্স্ট পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এই শান্তি আলোচনা সফল হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে দুপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই আলোচনাকে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ ঠেকানোর শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা বা ‘লাস্ট ডিচ এফোর্ট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতা করছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের একটি চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রথম ধাপে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি থাকবে, এই সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রোববার (৫ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি যদি বন্ধ রাখা হয়, তবে ইরানিদের জীবন নরকতুল্য করে দেওয়া হবে। ইরানে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হবে একাধারে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’। দেশটিতে এমন কিছু ঘটবে, যা আগে কখনও কেউ দেখেনি।
তিনি আরও লেখেন, ‘পাগল বেজন্মারা, ওই প্রণালি (হরমুজ) খুলে দাও, না হলে তোমরা নরকে বাস করবে। এখন শুধু দেখে যাও! খোদার প্রশংসা হোক!’
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নেভি ঘোষণা দিয়ে বলেছে, চলমান যুদ্ধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অপরিবর্তনীয় কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। এটি আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ চিরতরে শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহিরাগত শক্তিগুলো ইরানের আর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।