কঠোর দমন-পীড়নের পর ইরানে আবারও ছাত্র বিক্ষোভ

জানুয়ারি মাসের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর প্রথমবারের মতো ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে। নতুন সেমিস্টারের শুরুতে রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। খবর বিবিসির
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ভিডিও ফুটেজ দেখে জানা যায়, শনিবার শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদেও একই ধরনের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। অনলাইনে প্রকাশিত কিছু যাচাই-বাছাইহীন ভিডিওতে তেহরানের বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি এবং এক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারপন্থি ও বিরোধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণে সমাবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) জানুয়ারির শেষ দিকে দাবি করে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী ও ৯২ জন শিশু রয়েছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি এবং তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হামলার শিকার সাধারণ মানুষ।
এ বিক্ষোভ এমন একসময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চরমে। ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে—যা ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করে কিছু অগ্রগতির কথা জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বোঝা যাবে চুক্তি হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রবাসী বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানালেও অন্য অংশ বিদেশি হস্তক্ষেপের বিপক্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রচারণাও চলছে।
এদিকে শনিবারের বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের কোনো তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি।