মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়ার খরচ কমেছে ৮০ শতাংশ

আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই অর্থ পূর্বের নির্ধারিত ফির তুলনায় ৮০ শতাংশ কম। শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে এই নিয়ম প্রকাশিত হয় এবং সেদিন থেকেই তা কার্যকর হয়।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি নেওয়া শুরু হয়েছিল। তখন ফি ধার্য করা হয়েছিল ৪৫০ ডলারই। ২০১৫ সালে বিদেশে বসবাসকারী আমেরিকানদের জন্য নতুন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা চালু হলে নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
প্রশাসনিক খরচ মেটাতে তখন ফি বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়, যা অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। ২০২৩ সালে ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি লড়াই। ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’, যারা মূলত শুধু মার্কিন মাটিতে জন্মের কারণে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই ফির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংগঠনটি একাধিক মামলা দায়ের করেছিল। তবে একটি মামলা এখনও চলছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে নাগরিকত্ব ত্যাগে কোনো ফিই নেওয়া উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফ্যাবিয়েন লেহাগ্রে বলেছেন, ‘ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াইয়ের এটি সরাসরি ফল।’
আদালতে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণার পরেও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন আমেরিকান পুরো ২ হাজার ৩৫০ ডলার দিয়ে নাগরিকত্ব ছেড়েছেন।