logo

সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল ইরান

সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দুই দেশের মধ্যকার ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের খসড়া দলিলের একটি অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) ইরানের শীর্ষ আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ খসড়া দলিল প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা মেহের।

খসড়া প্রস্তাবনায় যুদ্ধ বন্ধ, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। এ খসড়া প্রস্তাবনাকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিস্তারিত ও স্পষ্ট কূটনৈতিক দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে মেহের।

খসড়া দলিলের ১৪টি প্রধান শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. লেবাননসহ চলমান সবকটি সীমান্তে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

২. ইরানের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাবে।

৩. আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত সব নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

৪. ইরানের চারপাশের সীমান্ত এলাকা থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

৫. আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং এটি সম্পূর্ণ ইরানি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

৬. ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এর থেকে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্য বিক্রির ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে হবে এবং ইরান তার আটকে থাকা সব আর্থিক সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পাবে।

৭. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি সচল করতে আমেরিকা ও তার মিত্রদের একটি বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা পেশ করতে হবে, যার আর্থিক মূল্য হবে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার।

৮. পারমাণবিক সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান এবং আমেরিকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরস-এর সব নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে তুলে নিতে ৬০ দিনের একটি আলোচনার মেয়াদ নির্ধারিত থাকবে।

৯. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক (এনপিটি) চুক্তির প্রতি ইরান তার প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করছে।

১০. এই ৬০ দিনের আলোচনার মেয়াদ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে না এবং ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না।

১১. আলোচনার এই ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল মুক্ত করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী, এই তহবিলের অর্ধেক অর্থাৎ ১২ বিলিয়ন ডলার মূল আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ইরানকে ব্যবহারের জন্য দিতে হবে।

১২. এই শান্তি চুক্তির শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে।

১৩. দুই দেশের মধ্যকার এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিটি পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে পাস ও অনুমোদিত হতে হবে।

১৪. চূড়ান্ত এই শর্তে বলা হয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিলের অর্ধেক মুক্ত, তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত মূল আলোচনা শুরু হবে না।

চূড়ান্ত চুক্তিতে কেবল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা এর সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা মুক্তি ও ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি নিয়ে কথা হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওয়াশিংটনের দাবি সত্ত্বেও ইরানের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ‘রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এই খসড়াটি সামনে এলেও এখনই একে চূড়ান্ত চুক্তি বলা যাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই খসড়া পাঠ্যটি বা টেক্সটটি এখনও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারা গভীর পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।