সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের দূত নিয়োগ, বাংলাদেশসহ ১২ দেশের নিন্দা

সোমালিল্যান্ডে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। সৌদি আরব, বাংলাদেশসহ ১২টি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মিশর, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-এ প্রতিনিধি পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।
মুসলিম দেশগুলোর এই জোট পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, কোনো রাষ্ট্রের ঐক্য বা সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে এমন কোনো একতরফা পদক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কাজ জাতিসংঘের সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের নীতিমালার পরিপন্থি। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলটি আগে থেকেই বেশ স্পর্শকাতর। ইসরায়েলের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে।
২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর একমাত্র দেশ হিসেবে ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সোমালিয়া সরকার এই স্বীকৃতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
সোমালিয়াও দীর্ঘদিন ধরেই সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া