logo

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি। আলজাজিরার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালালে তাতে কোনো পক্ষেরই কোনো লাভ হয় না। বরং হামলার শিকার হলে কাতার ও ওমান কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে না।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২ দিন ধরে হামলা চালানোর পর, ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে প্রাণহানি ঘটেছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আঞ্চলিক জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আল-খুলাইফি বলেন, ‘এই আক্রমণের বিস্তৃত প্রভাব, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও আবাসিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত নিয়ে কাতার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইরানের হামলার ঘটনায় কাতার তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সব সম্ভব এবং আইনসিদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিরোধের টেকসই সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।’

জলপথের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অব্যাহত রাখতে সংঘাতের বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন। কারণ, সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ইরান কাতার ও ওমানকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে, যারা আগে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। যতক্ষণ আক্রমণ চলছে, কোনো দেশ সেই ভূমিকা পালন করতে পারবে না, এবং ইরানকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে।’

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

আল-খুলাইফি আলজাজিরাকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, কিন্তু ইরানিরা এটিকে বুঝতে পারছে না। কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের পথ সবসময় খোলা থাকে, এবং আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সংঘর্ষ সমাধানের পথকে সমর্থন করি। আমরা আশা করি সব পক্ষ মিলেমিশে আলোচনার পথে ফিরে যাবে এবং সামরিক অভিযান শেষ করবে।’