

ইসমাইল বাঘেই। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতের আকস্মিক সামরিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পথে হাঁটার বিষয়টি তেহরানকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ যেকোনো ফলপ্রসূ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্তত একটি ন্যূনতম স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে মুখপাত্র বাঘেই অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে তাদের পরস্পরবিরোধী বার্তা, ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন এবং একের পর এক হামলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে গোড়া থেকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেখানে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটছে, সেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা বা প্রচেষ্টা আর সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে এই শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি ইসরায়েলের ভূমিকাকেও দায়ী করেছে তেহরান। ইসমাইল বাঘেই বলেন, লেবাননে বারবার যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে তেল আবিবও এই সামগ্রিক আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত শান্ত থাকা ও সংযম প্রদর্শন করা। সংঘাত আরও তীব্র করা বা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের এই প্রতিক্রিয়া এলো।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চীন কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রধান অর্থদাতা খাদের জামাসি এবং তার প্রধান সহযোগী মুহাম্মদ হারাজিনকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং সে দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ যৌথভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের রোববার (৭ জুন) চালানো ওই হামলায় হামাসের অর্থ স্থানান্তর নেটওয়ার্কের প্রধান এবং তার প্রধান সহযোগী নিহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের গাজায় হামাসের অর্থ জোগানের প্রধান কারিগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে এই দুই ব্যক্তি গাজার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা কয়েক ডজন অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছিলেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা গাজায় হামাসের সামরিক শাখার কাছে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক তহবিল স্থানান্তর ও পরিচালনা করেছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, মূলত এই গোপন তহবিল ব্যবহার করে হামাস তাদের যোদ্ধাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আসছিল।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বুধবার রাতভর অনুষ্ঠিত এসব ফোনালাপে অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাঘচি সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, মার্কিন হামলা ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বৈধ আত্মরক্ষার অংশ।
আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং চলমান উত্তেজনা নিয়েও তিন দেশের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি, জর্ডানে মার্কিন উপস্থিতি থাকা একটি বিমানঘাঁটি এবং অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলার দাবি করে। একই সময়ে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মধ্যে ভূপাতিত মার্কিন হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে প্রথমবারের মতো মানববিহীন নৌযান বা ‘সি ড্রোন’ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, এই উদ্ধার অভিযানটি সম্ভবত প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা, যেখানে সমুদ্র থেকে মানুষ উদ্ধারের কাজে কোনো মানববিহীন সামরিক যান সরাসরি ব্যবহৃত হলো।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে।
ভ্যান্স বলেন, আমি মনে করি আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের (নভেম্বর) আগেই অনেক কিছু জানতে পারব। চুক্তি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেও হতে পারে, আবার কয়েক মাসও লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায় যা শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিত হতে পারে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।
ভ্যান্সের ভাষায়, এই নীতির লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনো কিছু বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনও কিছু কাজ বাকি আছে, আমরা সেটি শেষ করছি।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জারকা প্রদেশের আল-আজরাক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
জর্ডান সেনাবাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত হওয়ার পর কিছু ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে, তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক প্রকৌশল দল মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ ও সম্ভাব্য বিস্ফোরক ঝুঁকি অপসারণে কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাকে সহ্য করা হবে না।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়। এর মধ্যেই জর্ডানের আকাশসীমায় এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত এক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জনগণকে শান্ত থাকতে এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাব দিতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও ব্যাপক ও তীব্র আঘাত হামলা শুরু হবে।’
বুধবার (১০ জুন) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটারে) দেওয়া বার্তায় জানায়, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। সবাইকে কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুর লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সেনাবাহিনী জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
পোস্টে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সতর্কতা মেনে চলেন এবং কেবলমাত্র সরকারি ও অনুমোদিত সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
তবে কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করা হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে, এটি একটি বিস্তৃত প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। এই অভিযানে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
ইরান দাবি করেছে, এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে পাল্টা অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, তাদের বাহিনী যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যৎ উত্তেজনার জন্য পুরোপুরি দায়ী করেছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাব দিতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
পরে, বুধবার (১০ জুন) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটারে) দেওয়া বার্তায় জানায়, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। সবাইকে কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানের একটি বিমানবাহিনীতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী ও এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই হামলায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছে তেহরান।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স জানিয়েছে, সলিড ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘাঁটির অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারও রয়েছে।
তবে আল-জাজিরা জানিয়েছে, স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাব দিতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও ব্যাপক ও তীব্র আঘাত হামলা শুরু হবে।’
বুধবার (১০ জুন) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটারে) দেওয়া বার্তায় জানায়, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। সবাইকে কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই পাল্টা জবাব দিতে বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানায় আইআরজিসি।
এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘মার্কিন হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইরান। এর জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ‘হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।’
আইআরজিসি ও ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া পৃথক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে বিবৃতিতে শুধু বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর কূটচালের জবাবে বাহরাইনেরে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে ওই হামলায় কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
খাতাম আল-আম্বিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।’
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনীর জানা উচিত, তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আগ্রাসন চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র হামলা চালানো হবে।’

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের ওপর ফের হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে হামলা শুরু হয়। হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি একটি আনুপাতিক জবাব।
এ সময় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সেন্টকম জানায়, ভূপাতিত হওয়া মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই আরোহীকে একটি মার্কিন ড্রোন উদ্ধার করেছে। এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করল যে এ ধরনের অভিযানে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, হেলিকপ্টারে দুইজন পাইলট ছিলেন। দুজনই নিরাপদ ও আহত হননি। তবুও এই হামলার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করে হামলাটি চালিয়েছে। তবে ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন।
ইরানের গণমাধ্যমও ঘটনাটির অস্তিত্ব স্বীকার করেছে। তবে দেশটির আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানটির দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সেন্টকম জানায়, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলাগুলো মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি তাদের কাজের জবাব। তারা গত রাতে আমাদের হেলিকপ্টারের সঙ্গে যা করেছে, তার প্রতিক্রিয়া এটি। আমি মনে করি জবাবটি শক্তিশালী ও কঠোর হওয়া উচিত ছিল, আর সেটাই করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানান, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা দুঃখিত যে পরিস্থিতি এখানে এসে পৌঁছেছে। তবে আমাদের এই বিষয়টির সমাধান করতে হবে।
হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশটি কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে পিছিয়ে যাবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।
মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা সামনে আসে। তেহরান আগেই সতর্ক করেছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নতুন করে প্রতিশোধমূলক আঘাতের ঢেউ সৃষ্টি করবে।
আরাঘচি বলেন, ইরানের সীমান্তের কাছে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী মানবিক ভুল, দুর্ঘটনা কিংবা সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাদের (বিদেশি বাহিনীর) চলে যাওয়া।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও প্রতিশোধের ইঙ্গিত দেন।
তিনি লেখেন, আমরা কূটনীতির ভাষাকে প্রাধান্য দিই, কিন্তু অন্য ভাষাগুলো আমরা আরও ভালোভাবে জানি। আপনারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তাহলে আমরা আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ভাষায় কথা বলব। যে ঘোড়ায় চড়েছেন, তার দায়ও আপনাদেরই নিতে হবে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করেছিল।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে উভয় দেশকে অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল ও ইরান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে, তবে অজ্ঞতা বা বোকামি শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা এমন একটি চুক্তির একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি, যা অত্যন্ত ভালো হবে। আরও দুই বা তিন দিন সময় লাগতে পারে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে।
এর আগে মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন। এতে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষ করে পঞ্চম নৌবহরের টাস্ক ফোর্স-৫৯ সহায়তা দেয়।
সেন্টকমের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, উদ্ধার হওয়া দুই সদস্যকে একটি মানববিহীন জলযান বা সামুদ্রিক ড্রোনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এটি টাস্ক ফোর্স-৫৯ পরিচালনা করছিল, যার সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত।
এই ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে মানবচালিত ও মানববিহীন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করে।
মুখপাত্র জানান, ড্রোনটি উদ্ধার হওয়া সেনাসদস্যদের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাদের একটি হেলিকপ্টারে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।