logo
Advertisement

লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন, গুলি করে ভূপাতিত করল ন্যাটো

এএফপি
এএফপি
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন, গুলি করে ভূপাতিত করল ন্যাটো
ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। ছবি: মিগফ্লাগ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নওসেদা বলেন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন আরও বাড়িয়ে চলায় এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এলআরটি জানিয়েছে, জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (এনকেভিসি) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল। পরে দেশটির মধ্যাঞ্চলে কাউনাস হ্রদের কাছে একটি গ্রামীণ এলাকায় সেটিকে ভূপাতিত করা হয়।

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুদরিস ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, মিত্রদের সামরিক উপস্থিতি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং দেশের নিরাপত্তা আরও জোরদার করছে।

বুদরিস বলেন, মিত্রদের ঐক্য ও দৃঢ়তার এ ঘটনা একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এর মাধ্যমে ন্যাটো যে সতর্ক, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত—সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

পোল্যান্ডেও আকাশসীমায় সতর্কতা

লিথুয়ানিয়ার ঘটনার পাশাপাশি পোল্যান্ডও তাদের আকাশসীমায় বিশেষ বিমান চলাচলসংক্রান্ত অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলায় ব্যবহৃত জেটচালিত ড্রোনের তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পোলিশ কর্তৃপক্ষ।

পোল্যান্ডের ভাষ্য, পদক্ষেপগুলো মূলত প্রতিরোধমূলক। দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য বাল্টিক দেশ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া নিজেদের আকাশসীমায় বিভিন্ন ধরনের ড্রোন প্রবেশের বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। যুদ্ধ শুরুর পর বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশের আকাশসীমায় বিদেশি ড্রোনকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমানের সরাসরি বাধাদানের সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা।

বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

লিথুয়ানিয়ায় সর্বশেষ ড্রোন প্রবেশের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইউক্রেনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের দিকে ১০২টি ড্রোন ছুড়েছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের শিল্প স্থাপনা ও তেল টার্মিনাল লক্ষ্য করে পাঠানো ড্রোনগুলোর গতিপথ রাশিয়া পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলটি ফিনল্যান্ড উপসাগরের তীরে অবস্থিত।

এদিকে ন্যাটোর প্রতিরোধব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রশ্নেও সক্রিয় হচ্ছে লিথুয়ানিয়া। জুলাইয়ের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নওসেদা জানিয়েছিলেন, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থায় তার দেশ অংশ নিতে আগ্রহী।

এর পর লিথুয়ানিয়া নিজেদের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের ওপর থাকা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়া-ন্যাটো উত্তেজনার পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।