এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখলের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পর এবার ইসরায়েলের টার্গেট লেবানন। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা ও বুলডোজারের সামনে একে একে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ লেবাননের জনপদ। প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। একসময়ের জীবন্ত জনপদ এখন মানুষশূন্য ধ্বংসস্তূপ। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলছে, এটা কেবল দখল নয়, বরং গোটা এলাকাকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ খবর জনিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে লেবাননের ন্যাশনাল ব্লকের মহাসচিব মিশেল হেলু বলেছেন, দেশটি এখন একটি ‘অস্তিত্বের সংকটের’ মুখোমুখি। দক্ষিণ লেবানন, বৈরুত ও বেকা উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের ঘোষণায়। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ‘প্রতিরক্ষামূলক বাফার জোন’ এবং লিতানি নদীর অবশিষ্ট সেতুগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেলু বলেছেন, গৃহযুদ্ধের পর কয়েক দশকের মধ্যে লেবানন সবচেয়ে ‘হতাশাজনক পরিস্থিতির’ মুখে পড়েছে।
হেলু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগও এনেছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে যা চলছে তা গাজার ধ্বংসযজ্ঞের মতোই একটি মডেল অনুসরণ করছে। এদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ প্রকাশ্যেই দক্ষিণ লেবাননকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে হেলুর কথায়। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ থেকে মানুষ সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে। কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই, কোনো মানুষের উপস্থিতি নেই। তার মতে, ‘এটা দখলের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটা আসলে একটি গোটা এলাকার ধ্বংস।’
এদিকে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কাটজের এই ঘোষণা দেশের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, ‘এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’
ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে লিতানি নদীর ওপর পাঁচটি সেতু ধ্বংস করেছে এবং সীমান্তবর্তী লেবাননের গ্রামগুলোতে বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তাদের দাবি, এটি বেসামরিকদের বিরুদ্ধে নয়, বরং হিজবুল্লাহর অবস্থান ধ্বংসের অংশ।