logo

রাফাহ ক্রসিং চালু, ‘গাজা’ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

রাফাহ ক্রসিং চালু, ‘গাজা’ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা কী

মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার মাধ্যমে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। কিন্তু হামাস নিরস্ত্রীকরণ করবে কি না সে বিষয়টিসহ কতগুলো কঠিন প্রশ্নের সমাধান এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

গাজা উপত্যকা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই উপত্যকায় বারবার ইসরায়েলি হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি হামাস অস্ত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করায় বিষয়টি নড়বড়ে হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণ করতে অস্বীকৃতি জানালে তারা যুদ্ধে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেবেন।

উপত্যকা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবেও অনুমোদিত হয়েছিল, যা গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

এখন এ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি হচ্ছে উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়েছিল এবং তা চলমান আছে। তবে লড়াই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলিদের গুলিতে কমপক্ষে ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটেছে এবং স্থল আক্রমণ স্থগিত করেছে, কিন্তু এখনো গাজার ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। উপত্যকার এ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ইসরায়েলি এবং মিসরীয় সীমান্তবর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরগুলোও রয়েছে, যেখানে তারা অবশিষ্ট ভবনগুলো ভেঙে ফেলেছে এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর অর্থ হলো, গাজার প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রায় সবাই এখন উপকূলের এক টুকরো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ, যেখানে হামাস পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এখন উপত্যকার বেশির ভাগ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা অস্থায়ী তাঁবুতে বাস করে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এবং সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে যে চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল এখনো গাজায় ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিচ্ছে না। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করছে। অপরদিকে ইসরায়েলের মদদপুষ্ট হামাস-বিরোধী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো গাজার কিছু অংশে ঘাঁটি স্থাপন করেছে।  

বিভিন্ন বিষয়ে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, ওয়াশিংটন নতুন বছরের পর পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ গাজা পরিচালনার জন্য ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের একটি কমিটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।

ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি ‘শান্তি বোর্ড’ তাদের তত্ত্বাবধান করবে। তিনি প্রথমে বলেছেন যে এটা গাজা যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। এ বিষয়টি এখন অন্যান্য সংঘাতও মোকাবিলা করবে বলে আশা করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

গাজার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা রয়েছে। কিন্তু এর গঠন, ভূমিকা ও ম্যান্ডেট—সবকিছুই ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইসরায়েলি অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত স্বশাসন প্রয়োগকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজায় ভূমিকা নেওয়ার আগে অনির্দিষ্ট সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা বলা হচ্ছে। তবে তার বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

গাজার পুনর্গঠনের তহবিল এবং তত্ত্বাবধানের জন্য এখনো পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই মাসে ‘নতুন গাজা’ পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার রূপরেখা অনুসারে আলোকিত আবাসিক টাওয়ার, ডেটা সেন্টার এবং শিল্প অঞ্চলের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনায় যুদ্ধের সময় বাড়িঘর, ব্যবসা এবং জীবিকা হারিয়েছেন এমন ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তির অধিকার বা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়নি। এমনকি পুনর্নির্মাণের সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা কোথায় থাকতে পারে, তা-ও উল্লেখ করা হয়নি। অনেক ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি সন্দেহ করছেন যে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে না এবং সংঘাত অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : রয়টার্স