ইরানের গোপন ‘কিল টিমের’ হামলার ভয়ে সতর্ক অবস্থানে যুক্তরাজ্যের এসএএস

ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যে সক্রিয় ইরানি গোপন ‘স্লিপার সেল’ সন্ত্রাসী হামলা শুরু করতে পারে। এসব গোপন ‘কিল টিম’গুলো ব্রিটেনে বসবাসকারী ইরানবিরোধী ব্যক্তিদের ওপর হত্যাকাণ্ড কিংবা অপহরণের মতো অভিযান চালাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিশেষ বাহিনী স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের (এসএএস) একটি সন্ত্রাসবিরোধী দলকে লন্ডনে মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাদের রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের ধারণা, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে অন্তত ১০০ জন ইরানি গুপ্তচর ও প্রক্সি এজেন্ট সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে ইরানে যুদ্ধ চলাকালীন এসএএস সদস্যরা লন্ডনের একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করবেন।
ব্রিটিশ অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫ এর কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরান যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার পরিকল্পনাও করতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে সংঘটিত এ ধরনের একটি আত্মঘাতী হামলায় মেট্রো ট্রেন ও একটি বাসে ভ্রমণরত ৫২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। এরপরের সময়েও বিভিন্ন হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি ছিল ম্যানচেস্টার অ্যারেনা হামলা, যেখানে ২২ জন নিহত হন। এখন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাজ্যে নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে।
একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। ইরানের এসব প্রক্সি হামলাকারীদের আক্রমণও শুরু হতে পারে। এ ধরনের সংকটের সময়েই সাধারণত স্লিপার সেল ও প্রক্সি এজেন্টদের সক্রিয় করা হয়। অপহরণ, পরিকল্পিত হত্যা, সাইবার হামলা, এমনকি লন্ডন ও অন্যান্য বড় শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আইইডি বিস্ফোরকের ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। কিন্তু আমাদের নিজেদের দেশে কী ঘটতে পারে সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।’
ডেইলি স্টার সানডে নামে আরেকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রয়োজনে ইরাক ও লেবাননের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নিতে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের এসব অঞ্চলেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এরই মধ্যে ইরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে দুই হাজারের বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এর জবাবে সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিসহ কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ওমান, কাতার ও আজারবাইজানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।