তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে আয়কর দপ্তরের অভিযান, ক্ষোভ মমতার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার সময়ে তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আয়কর দপ্তর।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাসবিহারী আসনের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালানো শুরু করেন।
মূলত, জমিসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা মামলার তদন্তে তার বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সেনাদের দিয়ে প্রথমে তার বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। মনোহরপুকুরের বাড়ির পাশাপাশি তার নির্বাচনি কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রতিবাদে নির্বাচনি অফিসের সামনে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা।
অন্যদিকে, দেবাশিস ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কুমার সাহার অফিসেও অভিযান চালাচ্ছে আয়কর দপ্তর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এর পাশাপাশি একটি রিয়াল এস্টেট সংস্থার সল্টলেক এবং কলকাতার বেশ কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালাতে থাকে আরেকটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কর্মকর্তারা।
এদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি, অভিযান নিয়ে সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, ‘আপনারা এখন কালো রুপি নিয়ে বাংলায় বসে আছেন। আর তৃণমূলের কংগ্রেসের দলের কার্যালয়ে অভিযান চালাচ্ছেন, দলের প্রার্থীদের বাড়ি গিয়ে তদন্ত করছেন। আমার প্লেনে অভিযান চালাতে আসছেন, নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল। সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না। তারা ভীতু ও কাপুরুষ। ওদের বিসর্জন দিন।’
এদিন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান চলছে কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনী প্রচারে উপস্থিত ছিলেন মমতা। সেখান থেকেই কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতার অভিযোগ, 'ইডি, সিবিআই, এনআইএ, আয়কর দফতর- সবাইকে একপক্ষ করে দিয়েছে। এই জিনিস আমি কোনো দিন দেখিনি। আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি, আমি সাতবার সংসদ সদস্য হয়েছি। কিন্তু এরকম প্রধানমন্ত্রী কখনো দেখিনি। আরেকজন মোটা ভাই। তোমরা বাংলাকে টার্গেট করেছ, বাংলার মানুষ তোমাদের বুঝিয়ে দেবে। বাংলাকে ইংরেজরা দমাতে পারেনি। তোমরাও পারবে না। বাংলাই ভারতকে পথ দেখাবে। আগামী দিন বাংলায় জিতে আমরা দিল্লি থেকে ওদের সরকার ভাঙবো।'
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, 'বিজেপি বাঙালি বিদ্বেষী। ওরা বাংলার মানুষকে পছন্দ করে না। বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করা হয়। বাংলার মানুষকে খুন করা হয়, বাংলার মানুষকে দেখে দেখে ভোট কাটা হয়।'
এ দিনের সভা থেকে মোদিকে তিনটি প্রশ্ন করেন মমতা। তার প্রশ্ন, 'ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুই কোটি মানুষকে চাকরি দেবেন? কিন্তু গত ১২ বছরে একটা লোককেও কি চাকরি দিয়েছে? নির্বাচনের আগে মোদি বাবু ১৫ লাখ রুপি করে প্রত্যেক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেবেন বলেছিলেন। আপনারা কি একজনও পেয়েছেন? নোট বাতিল করে আপনি বলেছিলেন দেশে কালো রুপি ফিরিয়ে আনবেন, আপনি কারো রুপি ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন?