ঘাঁটির বিষয়ে ‘খুব দেরিতে’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য: ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্তটি ‘খুব দেরিতে’ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২০ মার্চ) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দেখে আমি কিছুটা বিস্মিত—তাদের আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।’ বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে এসেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য) সম্পর্ক খুবই ভালো, কিন্তু এমনটা আগে কখনো হয়নি। তারা তো প্রায় আমাদের প্রথম মিত্র ছিল। তারা আমাদের ওই দ্বীপটি ব্যবহার করতে দিতে চাইছিল না—যে তথাকথিত দ্বীপটির অধিকার তারা কোনো কারণে ছেড়ে দিয়েছে।’
এখানে ট্রাম্প দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপের কথা উল্লেখ করেন, যা চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে এবং পরে সামরিক ঘাঁটিটি পুনরায় ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে যুক্তারাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আগাঘচি। শুক্রবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি এ কথা বলেন।
এক্স পোস্টে আগাঘচি বলেন, ইরান তাদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করবে। তিনি দাবি করেন, ‘ব্রিটিশ জনগণের বিশাল অংশ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের অংশ হতে চায় না।’
তিনি বলেন, নিজ দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে ব্রিটিশদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।