logo

উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবাকে চাননি আয়াতুল্লাহ খামেনি

উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবাকে চাননি আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা নিয়ে দেশটির ভেতরেই চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করেন, তাকে সুপ্রিম লিডার পদে দেখতে খুব বেশি মানুষ আগ্রহী ছিলেন না। এমনকি তার বাবা সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নাকি তা চাননি।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের উইলে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি চান না তার ছেলে তারই উত্তরসূরি হোক। তবে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সমর্থনে মোজতবা খামেনির নাম সামনে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদে ছেলের উপযুক্ততা নিয়ে খামেনির নিজেরই গুরুতর আপত্তি ছিল। ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিরোধী সংগঠন ইরানে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের গবেষণা পরিচালক খোসরো ইসফাহানি বলেন, ‘খামেনি তার উইলে স্পষ্টভাবে মোজতবাকে উত্তরসূরি না করার কথা বলেছিলেন’।

ইসফাহানির মতে, আলী খামেনি মনে করতেন দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মর্যাদা মোজতবার নেই। তিনি বলেন, ‘মোজতবা একজন দুর্বল তরুণ ধর্মীয় নেতা, যিনি রাজনৈতিক জীবনে তেমন কিছু অর্জন করতে পারেননি। এত বছর ধরে তিনি মূলত তার বাবার পরিচয়েই পরিচিত ছিলেন।’

ইরানে সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণ করে ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বরি অব এক্সপার্ট। এই পরিষদের কাজই হলো নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা।

তবে বিশ্লেষক ইসফাহানির দাবি, মোজতবা খামেনিকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। তার মতে, গত সপ্তাহে যখন পরিষদ এ নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

ইসফাহানি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটও পাননি। আইআরজিসির চাপের কারণে কয়েকজন ধর্মগুরু সেই বৈঠকই বয়কট করেন, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের কথা ছিল যে বিশেষজ্ঞ পরিষদের, তারা মোজতবার পক্ষে ভোট দেয়নি। তার বিরুদ্ধে অনেক চাপ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইআরজিসির চাপেই তাকে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।’

ইসফাহানির মতে, শক্তিশালী এই সামরিক বাহিনী মোজতবাকে এমন একজন নেতা হিসেবে দেখে, যাকে সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে তিনি যেন একটি পুতুলের মতো, ফাঁকা ক্যানভাস; যার ওপর তারা যা খুশি আঁকতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মন খারাপ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মোজতবা খামেনি ‘শান্তিতে থাকতে পারবেন না’ এবং এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন ‘অসন্তুষ্ট’।

মোজতবা খামেনির নিয়োগের আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও মতামত থাকা উচিত, যেমন অতীতে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৫৬ বছর বয়সি ছেলে মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা ‘অগ্রহণযোগ্য’। তার মতে, ইরানের নেতৃত্বে এমন একজন থাকা উচিত, যিনি দেশে ‘সম্প্রীতি ও শান্তি’ আনতে পারবেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, যদি এমন কাউকে নেতা করা হয় যিনি আগের নীতিই চালিয়ে যাবেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পাঁচ বছরের মধ্যে’ আবার যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে।

রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি সে তা না পায়, তাহলে বেশিদিন টিকতে পারবে না।’

৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি নিয়োগের আগে কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। ইরানের ক্ষমতার ভেতরের বৃত্তে পর্দার আড়ালে কাজ করেই তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

২০০০–এর দশকে ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় তাকে ‘পর্দার আড়ালের শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের জয় নিশ্চিত করার অভিযোগও ওঠে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আগে সতর্ক করে বলেছে, তেহরান যদি সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে যে কোনো ইরানি নেতাকে ‘নির্মূলের লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।