ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে রোববার অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এর একদিন আগে মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন করে হামলা জোরদার হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে একটি শিশু কেন্দ্রে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানান, নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ নিহত হন। একই সময়ে ওদেসা অঞ্চলে একটি ‘ব্যাপক হামলায়’ আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিয়েভের আঞ্চলিক প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, রুশ হামলায় আবাসিক ভবন, একটি দোকান, একটি হোটেল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একটি শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘বেসামরিক অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি আকাশ বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধ কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত, তাহলে এ ধরনের ‘শাহেদ’ ড্রোন হামলার ঢেউ দেখা যেত না।
তবে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভস্টার ওমেগা টেলিকমের কিয়েভভিত্তিক দুটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে সেবা দিচ্ছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন একটি ড্রোনের ছবিও প্রকাশ করেছে, যাতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ লেখা ছিল।
যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মস্কোর
শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো তার সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তবর্তী খ্রিপুনি গ্রাম দখল করেছে। খারকিভকে রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে না, যদিও যুদ্ধের সময় অঞ্চলটির কিছু অংশে রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। একই সঙ্গে ক্রেমলিন বারবার জানিয়েছে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশও দখল করতে চায়।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনা এখনো কোনো বড় অগ্রগতি আনতে পারেনি। এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে।
