ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থাকায় এবং তাদেরই অনুরোধে ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। শান্তি আলোচনায় সুফল না আসলে মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প
সোমবার (১৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন। পোস্টে তিনি ‘ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না’ বলেও দৃঢ় মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের হামলা চালাতে’ পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির একজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা যেন আবারও কোনো ধরনের ‘কৌশলগত ভুল এবং ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করে।
সংবাদমাধ্যম বিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতে ট্রাম্প এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই যুদ্ধকে আর ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না। সোমবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
এছাড়া, বর্তমানে মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজকর্মকে সমর্থন করছেন। অর্থনীতি, অভিবাসন সমস্যা এবং এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এই জরিপ ফল অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর এই সংকটের শুরু হয়। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের মূল ভয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে আবার হামলা চালায়, তবে ইরান তাদের ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধ নিতে পারে। ইরানের হাতে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও মিসাইল রয়েছে, যা দিয়ে তারা সহজেই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ ডেসালিনেশন (লবণাক্ততা দূরীকরণ) প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালাতে সক্ষম। বিশেষ করে সামনে তীব্র গরমের দিন আসায় এই প্ল্যান্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে।
পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করলেও কিছুটা সাবধানে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক শেষ পর্যন্ত এর ফল কী দাঁড়ায়। অতীতেও এমন সময় গেছে যখন আমরা ভেবেছিলাম চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি, কিন্তু পরে তা সফল হয়নি। তবে এবারের বিষয়টি কিছুটা আলাদা।’
ট্রাম্প আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি সম্মানজনক চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি তাদের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণ না করে সমাধানে পৌঁছাতে পারি, তবে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব।’
সংকট নিরসনে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। মাঝে মাঝে ছোটখাটো কিছু গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত সেই যুদ্ধবিরতি মূলত বজায় রয়েছে।
