logo

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করতে ট্রাম্পের সতর্কতা

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করতে ট্রাম্পের সতর্কতা

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পুনরায় হামলা না চালাতে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে যখন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তীব্র হচ্ছে, তখনই এই বার্তা দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন ইরানের গ্যাস স্থাপনায় হামলা পুনরাবৃত্তি না করতে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি তাকে বলেছি, এটা করো না—এবং সে আর এটা করবে না।’

এর আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা চালায়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র। এতে কাতারের উল্লেখযোগ্য গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম এক পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে। ইউরোপীয় গ্যাসের দামও দ্রুত বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই। ‘আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না,’—বলেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রস্তুতি জানিয়েছে। তবে যুদ্ধের মধ্যে সরাসরি জড়াতে তারা এখনও অনীহা দেখাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ‘গ্লোবাল অয়েল শক’-এর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

সূত্র: রয়টার্স