কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, কাতারের আল উদেইদ, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং ইরাকের হারিরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই বিবৃতি শেয়ার করে জানায়, বড় পরিসরের এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরও লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং এতে মার্কিন সেনাবাহিনীর অপারেশনাল অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
আরেকটি পোস্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিশাল অভিযান। তবে এ হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
এদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার ৩৭তম দফা অভিযান চালিয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে আলজাজিরা জানায়, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা ও বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘সুপার-হেভি’ খোররামশহর ক্ষেপণাস্ত্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে দ্বিতীয়বারের মতো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফায়।
ইরান আরও দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। এরমধ্যে ইরাকের ইবরিলের মার্কিন ঘাঁটি ও বাহরাইনের মানামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসব স্থাপনায় ভারী হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এই যুদ্ধে আমরা কেবল শত্রুর পূর্ণ আত্মসমর্পণের কথাই ভাবছি।