আঙুলের ছাপ দিতে বাধ্য করায় যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করলেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভির ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বপরিকল্পিত পারিবারিক সফর বাতিল করেছেন।
মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিতে বাধ্য করায় যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২।
সোমবার হিব্রু গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাকে ভিসা দেওয়ার শর্ত হিসেবে আঙুলের ছাপ দিতে বলা হয়। মূলত তার আগের ফৌজদারি দণ্ডের কারণে মার্কিন দূতাবাস এ পদক্ষেপ নেয়।
চ্যানেল-১২ নিউজ জানায়, এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে ওয়াশিংটন তার ভিসা অনুমোদনে আগ্রহী ছিল না।
কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত বেন গাভির তার বিতর্কিত আচরণের জন্য বহুবার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
তার ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা যায়, নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বেন গাভিরের দপ্তর পরে এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি স্বেচ্ছায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার না করে সাধারণ ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কারণ তার এই সফর ব্যক্তিগত কারণে ছিল।
এর আগে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছিল, মিয়ামিভিত্তিক ইসরায়েলি ব্যবসায়ী ইয়াকভ এলহারারের খরচে বেন গাভিরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা ছিল। ব্যক্তিগত এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল এলহারারের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে সপরিবারে অংশ নেওয়া।
তবে তিনি কেন পুরো সফর বাতিল করলেন বা কেন তিনি আগে দাবি করেছিলেন যে, সব আবেদনকারীকেই আঙুলের ছাপ দিতে হয়- সেসব বিষয় স্পষ্ট করেননি।
সাধারণত ইসরায়েলিরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারেন। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড না থাকা।
জানা গেছে, বেন গাভির জেরুজালেমের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার করা দৈনিক হারেৎজের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার একটি শুনানি পিছিয়ে দিতে আবেদন করেছিলেন। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। আদালতের কাছে এই সফরকে ‘কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সফর’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। আর বিয়েতে যোগ দেওয়াকে শুধু ব্যক্তিগত কাজ হিসেবে বলেন।
আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করলেও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তাকে ১২ হাজার ৫০০ শেকেল (প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার) আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
যদিও পরে তার দপ্তর দাবি করে, এটি মূলত ব্যক্তিগত সফর ছিল।
এদিকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে মন্ত্রীদের বিদেশ সফরের অনুমতি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুমতি কমিটি চলতি মাসের শুরুতে তার আবেদন পর্যালোচনা করে। হারেৎজকে দেওয়া এক আইনি সূত্রের বরাতে জানা যায়, কমিটির সমালোচনার পরই তিনি ওই আবেদন প্রত্যাহার করেন।
পরে বেন গাভির জানান, তিনি নিজ খরচে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। সফরের ব্যয়ে তার পরিবারসহ বিমানভাড়া ও আবাসন খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদেরও রাষ্ট্রীয় খরচে সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল।
ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বার্থের সংঘাত, নৈতিকতার প্রশ্ন বা প্রশাসনিক অনিয়ম না থাকলে মন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদেশ সফরের অনুমতি পেতে পারেন। তবে অর্থায়নটি অবশ্যই সরকারি পদমর্যাদার কারণে নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে হতে হবে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতে এর চেয়ে কম ব্যয়ের সফরের আবেদনও নৈতিকতা ও স্বার্থের সংঘাতের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে শুরু থেকেই এই সফরটি বিতর্কের মুখে ছিল।
বেন গাভির একাধিকবার দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। যার মধ্যে শান্তিভঙ্গ, বর্ণবিদ্বেষে উসকানি ও একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে।
