যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান

বিশ্বের অন্যতম সংকীর্ণ জলপথ ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যু্ক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন শর্তাবলি দিয়ে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের দাবি ও শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি।
এক বিশেষ বিবৃতিতে আলটিমেটামের কথা নিশ্চিত করে মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দেন যে, মার্কিন প্রশাসন এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শর্তগুলো মেনে না নিলে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। উপস্থাপিত শর্তসমূহ ওয়াশিংটন মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো কূটনীতি বা সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান কৌশলগত অবরুদ্ধ অবস্থা আলোচনা ও সমঝোতার জন্য নতুন এক নিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকেই প্রথমে কৌশলগত আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। ইরান তার আগের নমনীয় কূটনৈতিক পন্থা কিংবা পূর্বে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের’ পুরোনো শর্তাবলিতে আর কোনো অবস্থাতেই ফিরে যাবে না।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আমাদের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে আমরা যে নতুন ও শক্ত কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করেছি, তা পূর্ণ শক্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে।’ এর জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের সাধারণ জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ইরানের বিমান ও আকাশসীমা সংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সহযোগিতা না করার বিষয়ে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মেজর জেনারেল রেজাই।
সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে গিয়ে ইরানি বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমানকে তাদের নিজস্ব বিমানবন্দর ব্যবহারে বাধা দেয় বা কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তবে ইরান নিজস্ব সামরিক পন্থায় নিশ্চিত করবে যাতে ওই সব দেশের বিমানবন্দরগুলোও সচল বা চালুর উপযোগী না থাকে।
