logo

ইউক্রেনের জন্য ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

বিবিসি
বিবিসি
ইউক্রেনের জন্য ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট (পিএসি-৩) ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: বিবিসি নিউজ

রাশিয়ার অব্যাহত বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট (পিএসি-৩) ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কেনাকাটায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো তহবিল ব্যয় হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের মাধ্যমে পুরো অর্থের সংস্থান করা হবে। অস্ত্রগুলোর মূল ঠিকাদার হিসেবে উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

সামনে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা বাড়ছে। এতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান জেলেনস্কি। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন এখনই, কয়েক বছর পর নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর মাত্র ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়। বিশ্বজুড়েও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে। ফলে নতুন করে অনুমোদন পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের নেতৃত্বের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই অস্ত্র বিক্রির এই সিদ্ধান্ত এলো। সম্প্রতি ট্রাম্প ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে অসলোতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে।

এদিকে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা যৌথ ছবি তোলার আয়োজনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।

একই বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের একমাত্র আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে যুদ্ধ ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান ও মস্কোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।