জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে অস্তিত্ব সংকটে মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্প

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মালয়েশিয়ার পর্যটন খাতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। সংকট সমাধানে সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কুয়ালালামপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল।
সংবাদমাধ্যম জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটন অপারেটরদের ওপর যে ব্যয়ের বোঝা চেপেছে, তা এককভাবে বহন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সংকট সমাধানে খাতসংশ্লিষ্টদের আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন মালয়েশিয়ান ট্যুরিজম ফেডারেশন (এমটিএফ)।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শ্রী গণেশ মিখাইল বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়িক কাঠামো অনুযায়ী ট্যুর প্যাকেজের দাম আগেভাগেই নির্ধারিত থাকে। পর্যটকরা ভ্রমণের আগেই প্যাকেজ কিনে ফেলেন এবং চুক্তির কারণে তারা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লেও এজেন্সিগুলো বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপাতে পারে না। এই বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা এজেন্সিগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে।’
এমটিএফ বলছে, অনেক ট্রাভেল এজেন্সির নিজস্ব যানবাহন না থাকায় তারা ভাড়া করা বাস, বোট বা ফেরি সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন অপারেটররা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
গত সোমবার মালয়েশিয়ান ইনবাউন্ড ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (মিতা) ট্যুর বাস ও ভ্যানের ভাড়া ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়ালালামপুর থেকে এক দিনের ভ্রমণের জন্য একটি বাস ভাড়া ছিল এক হাজার ২০৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। বর্তমানে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে একই বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ২০০ রিঙ্গিত।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে দেশটিতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৬ দশমিক শূন্য ২ রিঙ্গিতে ঠেকেছে।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি, আর্থিক সহায়তা, স্বল্পমেয়াদী নীতি প্রণয়ন ও সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এমটিএফ সতর্ক করে বলেছে, পর্যটন শিল্প মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এখনই এই খাতকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া না হলে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্প টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমান আর্থিক সংকট দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আস্থা সংকট তৈরি করতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।