logo

যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছিল, ট্রাম্প তখন গানের তালে খেলা দেখছিলেন

যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছিল, ট্রাম্প তখন গানের তালে খেলা দেখছিলেন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছিল, তখন মায়ামিতে বসে নিজের পছন্দের খেলা উপভোগ করছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে  অনুষ্ঠিত হয় বছরের অন্যতম বড় মিক্সড মার্শাল আর্টস গেইম শো আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ-ইউএফসি ৩২৭। সেখানে গানের তালে তালে গ্যালারিতে বসে খাঁচার ভেতর ‘ফাইটারদের’ রক্তাক্ত লড়াই উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে।

রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইয়াহু স্পোর্টস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় ট্রাম্পের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্পের বন্ধু এবং ইউএফসির সিইও ডানা হোয়াইট এই সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা করেছিলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ট্রাম্প ইউএফসি ইভেন্টে উপস্থিত থাকবেন। এই ইভেন্টটি সিবিএস এবং প্যারামাউন্ট প্লাসে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

সাধারণত ট্রাম্প কোনো ইভেন্টে আসছেন কি না তা জানতে ভক্তদের লড়াইয়ের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে এবার ট্রাম্প আগেভাগেই জানিয়েছিলেন তিনি উপস্থিত থাকবেন এবং সরাসরি লড়াই উপভোগ করবেন।

ইয়াহু স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএফসি ফাইটাররা খাঁচার ভেতর মুষ্টিযুদ্ধে যখন লিপ্ত হন, তখন গ্যালারিজুড়ে বাজছিল কিড রকের বিখ্যাত গান ‘আমেরিকান ব্যাডঅ্যাস’। ওই সময় পুরো গ্যালারি করতালিতে ফেটে পড়ে। উপস্থিত ফ্লোরিডার দর্শকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পান ইভেন্টের অন্যতম আকর্ষণ ট্রাম্প।

ইউএফসি ৩২৭ একটি বড় ধরনের মার্শাল আর্টস ইভেন্ট। যেখানে বিশ্বের সেরা ফাইটাররা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে থাকেন। এই টুর্নামেন্টে বিশেষ করে মূল লড়াই বা ‘মেইন ইভেন্ট’ নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা থাকে। এই মূল ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ছোট কন্যা টিফানি

ট্রাম্প যখন খেলা উপভোগ করছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে শেষপর্যন্ত কোনো সমঝোতা আসেনি। খালি হাতে ইসলামাবাদ ছেড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। 

এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুঃসংবাদ, তারা (ইরান) আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে, তার কারণ পাকিস্তানিরা নয়; তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানিদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি। ইরানিদের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি। এটাই সুসংবাদ।

ডানা হোয়াইটের সঙ্গে ট্রাম্প

তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দায় চাপিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। তিনি বলেন, পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় তাদের প্রতিনিধিদল ‘ভবিষ্যৎমুখী’ উদ্যোগ উত্থাপন করেছিল। কিন্তু এ দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গালিবাফ জানান, আলোচনা শুরুর আগে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও সংকল্প রয়েছে। কিন্তু আগের দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্রের) ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।