ভারতের উত্থান মার্কিন স্বার্থের জন্য মঙ্গলের: পেন্টাগন

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক শক্তির আধিপত্য দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে এই অঞ্চলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বহুল আলোচিত জোট চতুর্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপের (কোয়াড) কোনো উল্লেখ করেননি।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহকারী সচিব এলব্রিজ কোলবি দিল্লি সফরে রয়েছেন। বুধবার প্রতিরক্ষা নীতি গোষ্ঠীর বৈঠকের আগে কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যে কোলবি ভারতকে একটি ‘অপরিহার্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও কার্যকর সহযোগিতার জন্য সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়। তার ভাষায়, বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
কোলবি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়, যা দুই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের ভিত্তিতে এই অঞ্চলে স্থিতিশীল শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখবে। একটি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ভারত শুধু ভারতীয় জনগণের জন্যই মঙ্গলজনক নয়, এটি আমেরিকানদের জন্যও মঙ্গলজনক।’
দিল্লিতে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং দেশটি ক্রমশ তার সীমান্তের বাইরেও প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জন করছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের সাফল্য শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও প্রতীকী ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।’
কোলবি আরও বলেন, ভারতের রয়েছে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম সামরিক বাহিনী, যারা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তিনি ‘নির্ভরশীল রাষ্ট্রগুলোর’ তুলনায় ‘আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে’ বেশি ইতিবাচকভাবে দেখার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর, যা দিল্লিতে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
চলতি মাসের শুরুতে রাইসিনা সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মতো করে ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানকে সমর্থন করবে না। তার ভাষায়, ‘২০ বছর আগে চীনের সঙ্গে আমরা যে ভুল করেছিলাম, ভারতের ক্ষেত্রে সেই একই ভুল আর করব না।’
এই মন্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, অতীতে চীনের বাজার গড়ে তুলতে সহায়তা করলেও পরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। ল্যান্ডাউয়ের এই বক্তব্য ভারতে সমালোচনার জন্ম দেয় এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সূত্র: দ্য হিন্দু